3:15 pm, Friday, 4 April 2025

মাশরুম চাষে সফলতার হাতছানি

হাফেজ মঈনউজ্জামান মঈন পড়ালেখা শেষ করে চাকুরীর পিছনে না ছুটে মাসরুমের উপর একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের সহযোগিতায় সাফল্যের হাতছানি অনুভব করছেন তরুণ উদ্দ্যোক্তা হাফেজ মঈন। বর্তমানে তার ২টি সেট রয়েছে মাশরুম চাষের জন্য, সম্পুর্ন আধুনিক পদ্ধতিতে তিনি এ চাষ করে আসছেন।

খোজ নিয়ে জানাগেছে পাংশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প স্পন ও মাশরুম উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাশরুম চাষের জন্য আধুনিক সকল ব্যবস্থা প্রদান করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাংশা। সরে জমিনে গিয়ে দেখাযায় ২ টি টিনের শেড করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাশরুম চাষ করছে মঈন, সেখানে স্থায়ী ভাবে তাক বসানো রয়েছে, পানির দেওয়ার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্র, ঝুলন্ত রয়েছে বেশ, মাশরুম বিক্রির জন্য রয়েছে একটি ভ্যান গাড়ী যা সম্পূন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রদান করেছেন।

উদ্দ্যোক্তা হাফেজ মঈন জানান, তিনি মাত্র ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন এ বছর প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি জানান। এখন প্রায় প্রতিদিন ৩-৪ কেজি মাশরুম বিক্রি করছেন যার বাজার মূল্য ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকা। এটা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তরুন এই উদ্দ্যোক্তা। তিনি বলেন, আমার মাশরুমের ক্রেতা সকলেই শিক্ষিত মানুষ, যারা এ মাশরুমের গুনাগুন জানেন তারা মোবাইলের মাধ্যমে ফোন করে অর্ডার দেন। আমরা তাদের বাসায় কিংবা বাজার এলাকায় ডেলিভারী দিয়ে থাকি। কৃষি বিভাগের দেওয়া ভ্যান যোগেও আমরা মাশরুম পৌছে দিয়ে থাকি, তবে গ্রামে এ ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও শহর এলাকায় মাশরুমের ক্রেতা ব্যপক বলেও তিনি জানান। তার এমন কর্মে স্থানীয় বেশ কিছু তরুন এমন উদ্দ্যোক্তা হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কসবামাজাইল ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই মাশরুম চাষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। সার্বক্ষনিক এই উদ্দ্যোক্তাকে পরামর্শ প্রদানসহ যাবতীয় সমস্যা দেখভাল করে আসছি। আশা করছি, তিনি লাভবান হবেন।

পাংশা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, পাংশা উপজেলার সর্বত্রই আমরা এ মাশরুম চাষীসহ সকল উদ্দ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ প্রদান করে থাকি। পাংশাতে আমরা আরো মাশরুম প্রর্দশনী দিতে কাজ করে যাচ্ছি। কসবামাজাইল ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে আমাদের একটি প্রর্দশনী আছে। সেখানে আমরা নিয়মিত ভিজিট করে থাকি এবং উদ্দ্যোক্তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছি। মাশরুম মানব খাদ্যে অত্যান্ত উপকারী জিনিস। এটার মাধ্যমে ভাল লাভবানও হওয়া যায়। সঠিক নিয়মে চাষ করলে লাভবান হওয়ার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

‘মানুষ একটা ভাল নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছে’ -আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম

মাশরুম চাষে সফলতার হাতছানি

Update Time : 12:09:11 pm, Monday, 9 December 2024

হাফেজ মঈনউজ্জামান মঈন পড়ালেখা শেষ করে চাকুরীর পিছনে না ছুটে মাসরুমের উপর একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের সহযোগিতায় সাফল্যের হাতছানি অনুভব করছেন তরুণ উদ্দ্যোক্তা হাফেজ মঈন। বর্তমানে তার ২টি সেট রয়েছে মাশরুম চাষের জন্য, সম্পুর্ন আধুনিক পদ্ধতিতে তিনি এ চাষ করে আসছেন।

খোজ নিয়ে জানাগেছে পাংশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প স্পন ও মাশরুম উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাশরুম চাষের জন্য আধুনিক সকল ব্যবস্থা প্রদান করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাংশা। সরে জমিনে গিয়ে দেখাযায় ২ টি টিনের শেড করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাশরুম চাষ করছে মঈন, সেখানে স্থায়ী ভাবে তাক বসানো রয়েছে, পানির দেওয়ার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্র, ঝুলন্ত রয়েছে বেশ, মাশরুম বিক্রির জন্য রয়েছে একটি ভ্যান গাড়ী যা সম্পূন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রদান করেছেন।

উদ্দ্যোক্তা হাফেজ মঈন জানান, তিনি মাত্র ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন এ বছর প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি জানান। এখন প্রায় প্রতিদিন ৩-৪ কেজি মাশরুম বিক্রি করছেন যার বাজার মূল্য ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকা। এটা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তরুন এই উদ্দ্যোক্তা। তিনি বলেন, আমার মাশরুমের ক্রেতা সকলেই শিক্ষিত মানুষ, যারা এ মাশরুমের গুনাগুন জানেন তারা মোবাইলের মাধ্যমে ফোন করে অর্ডার দেন। আমরা তাদের বাসায় কিংবা বাজার এলাকায় ডেলিভারী দিয়ে থাকি। কৃষি বিভাগের দেওয়া ভ্যান যোগেও আমরা মাশরুম পৌছে দিয়ে থাকি, তবে গ্রামে এ ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও শহর এলাকায় মাশরুমের ক্রেতা ব্যপক বলেও তিনি জানান। তার এমন কর্মে স্থানীয় বেশ কিছু তরুন এমন উদ্দ্যোক্তা হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কসবামাজাইল ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই মাশরুম চাষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। সার্বক্ষনিক এই উদ্দ্যোক্তাকে পরামর্শ প্রদানসহ যাবতীয় সমস্যা দেখভাল করে আসছি। আশা করছি, তিনি লাভবান হবেন।

পাংশা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, পাংশা উপজেলার সর্বত্রই আমরা এ মাশরুম চাষীসহ সকল উদ্দ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ প্রদান করে থাকি। পাংশাতে আমরা আরো মাশরুম প্রর্দশনী দিতে কাজ করে যাচ্ছি। কসবামাজাইল ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে আমাদের একটি প্রর্দশনী আছে। সেখানে আমরা নিয়মিত ভিজিট করে থাকি এবং উদ্দ্যোক্তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছি। মাশরুম মানব খাদ্যে অত্যান্ত উপকারী জিনিস। এটার মাধ্যমে ভাল লাভবানও হওয়া যায়। সঠিক নিয়মে চাষ করলে লাভবান হওয়ার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে।