স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার এলাকায় আজও (শনিবার) থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। দরবার ও বাড়ির ভেতরে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শুধুই ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন।
এর আগে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা তিনটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলার দরবার বাড়িতে হামলা চালায় কথিত তৌহিদী জনতা। হামলাকারীরা ১৩ দিন আগে কবর দেয়া নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে উল্লাস করে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে নিয়ে গিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর মৃতদেহের অবশিষ্ট ছাই ও দেহাবশেষ মরা পদ্মা নদীর পানিতে ফেলে দেয়।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালন্দ পাক দরবার শরীফের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করছে। তবে পুলিশ দরবারের ভেতরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। দরবারের ভেতর একটি তিন তলা, একটি দুই তলা বিশিষ্ট ভবন ও আরো ছোট ছোট বেশ কিছু এক তলা এবং টিনের ঘর ছিল। টিনের ঘরগুলো তৌহিদী জনতার দেয়া আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং দু’টি ভবনের প্রতিটি তলার প্রতিটি কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পড়ে রয়েছে।
ভবন থেকে প্রায় দেড়শ গজ দূরে নুরাল পাগলের দরবার। সেখানে উচুতে একটি টিনশেড ঘরে বসে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটাতেন নুরুল হক। অপর পাশে মৃত্যুর পর তাঁকে কবর দেওয়া হয়। দরবারের ভেতরে এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তুব।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, সরকারী কাজে বাধা প্রদান, সরকারী সম্পদ ধ্বংস ও পুলিশের উপর হামলার ঘাটনায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে। এছাড়া নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অপরদিকে নিহত রাসেল মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের আমীর এ্যাড. নুরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিব্রিতি দিয়ে বলেছেন, তিনি দরবারে হামলা ঠেকানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। এ ধরনে হামলা ও কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো তারা সমর্থন করেন না।
মন্তব্য করুন