রুবেলুর রহমান : রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নারুয়াতে ওবায়েদুর রহমান (৪৩) নামে এক কৃষককে বিষ প্রয়োগ ও গলা কেটের হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী মোছাঃ পলি বেগম (৪০) সহ শশুরবাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে শুক্রবার (২৭ জুন) এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানায় চিকিৎসাধীন ওবায়েদুরের স্ত্রী পলি খাতুনসহ ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে তার ভাই মোঃ ইকবাল হোসেন।
মামলার আসামীরা হলেন, ওবায়েদুরের শ্যালক মোঃ মুসা মন্ডল (৩২), মোঃ হারুন মন্ডল (৩০), স্ত্রী মোছাঃ পলি বেগম (৪০), স্ত্রীর বড় বোন মোসাঃ নাজমুন নাহার ওরফে আসমানী (৪২), বোন জামাই মোঃ বাবর আলী (৪৪), শশুর মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৬৮)। এদের সবার বাড়ী নারুয়ার গাড়াকোলা গ্রামে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাযায়, নারুয়ার গাড়াকোলা গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে ওবায়দুর রহমান একজন কৃষক। প্রায় ২৫ বছর আগে নারুয়ার গাড়াকোলা গ্রামে আবুল কালাম আজাদের মেয়ে পলি বেগমের সাথে তার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক ছেলে সহ ৩ জন মেয়ে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের মধ্যে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ চলছিলো। যার কারণে প্রায় ৫ মাস আগে পলি বেগম তার বাবা মোঃ আবুল কালাম আজাদের বাড়ীতে চলে যায়। এরপর একাধিক বার তাকে তার স্বামী আনতে গেলে সে আসে নাই। গত ২৪ জুন রাতে পলি বেগমের মোবাইল ফোন করে তার স্বামী বাড়ীতে ফিরে আসতে বললে তার শ্যালক মোঃ মুসা মন্ডল ফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। ২৭ জুন মধ্যরাতে তার স্ত্রীর সাথে মিল করিয়ে দেবার কথা বলে তার ভাইরা ভাই মোঃ বাবর আলী ফোন করে তাকে শশুর বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তার স্ত্রী, শ্যালক, স্ত্রীর বোন, তার জামাই ও শশুর একত্রিত হয়ে ধারালো দেশীয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও লাঠি-শোঠা নিয়ে ঘিরে তাকে এলোপাথারীভাবে মারধোর করে। একপর্যায়ে জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে ঘাস মারার বিষ খাওয়ায়ে হত্যার চেষ্টার পর ধারালো হাসুয়া ও ছেন দা দিয়ে গলা কেটে রক্তাক্ত জখম করে তার শ্যালক মোঃ মুসা মন্ডল ও মোঃ হারুন মন্ডল। ওই সময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। তখন আসামীরা স্থানীয় অনেকের উপস্থিতিতে তাকে খুন করে লাশ নদীতে ফেলে দেবার হুমকি দেয়। পরে তার পরিবারের লোকজন এসে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জস্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয় নাই। আসামীদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন