স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত শুক্রবার গোয়ালন্দ দরবারে হামলায় নিহত যুবক মো. রাসেল মোল্লার (২৮) বাড়িতে এখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের তেনাপচা গ্রামের আজাদ মোল্লার ছেলে। রাসেল মোল্লা মোস্তফা মেটাল ইন্ড্রাস্ট্রিজের গাড়ি চালকের কাজ করতেন। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের বাবা। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যাক্তিকে অকালে হারিয়ে রাসেল মোল্লার স্ত্রী দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে অথৈই সাগরে পরেছেন।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে নিহত রাসেল মোল্লার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাসেল মোল্লার মৃতদেহ এখনো বাড়িতে পৌছায়নি। এরই মধ্যে বাড়িতে স্বজনরা ভিড় করে আছে। বাবা আজাদ মোল্লার কোলে রাসেল মোল্লার ৫ বছর বয়সী শিশু কন্যা নার্সারী শ্রেণির ছাত্রী ইয়াসমিন। ছোট্ট ইয়াসমিন দাদুকে মৃহদেহের খাটিয়া দেখিয়ে বলছে, ‘দাদু এটা দিয়ে কি করে? পাশের একজন উত্তর দিচ্ছে এখানো তোমার আবুকে শোয়ানো হবে। ইয়াসমিন তার দাদুকে বলছে, তাহলে ঘর থেকে বালিশ এনে দাও, আব্বু এখানে শুবে।’
এসময় আজাদ মোল্লা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলে কার কি ক্ষতি করেছিল? যে তাকে হত্যা করতে হলো। সে কোম্পানীর গাড়ি চালায়, শুক্রবারের দিন গোয়ালন্দ দরবারে গিয়েছিল। এতে কার এতবড় ক্ষতি করে ফেলেছিল। তাকে হাতুরী দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এরপর প্রশাসনের লোকজন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও পুনরায় হামলা করে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এখন এই অবুঝ শিশু দু’টির ভবিষ্যত কে দেখবে। পরিবারে রাসেলই একমাত্র উপার্জক্ষম ছিল।’
এর আগে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা তিনটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলার দরবার বাড়িতে হামলা চালায় কথিত তৌহিদী জনতা। হামলাকারীরা ১৩ দিন আগে কবর দেয়া নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে উল্লাস করে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে নিয়ে গিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর মৃতদেহের অবশিষ্ট ছাই ও দেহাবশেষ মরা পদ্মা নদীর পানিতে ফেলে দেয়।
মন্তব্য করুন