জহুরুল ইসলাম হালিম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনায় নতুন করে গ্রেপ্তার হলো আরও চারজন। এর মধ্যে অন্যতম মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃত মুফতি মো. আব্দুল লতিফ (ইমাম), যিনি সরাসরি কবর থেকে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশের তথ্যে জানা গেছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, এর আগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি অপু কাজী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেখানে মুফতি আব্দুল লতিফের নাম উঠে আসে এবং তার নির্দেশেই নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল বলে তথ্য মেলে। ওই সূত্রে মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মুফতি আব্দুল লতিফসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুফতি আব্দুল লতিফ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাজি পাড়া বাইতুল মোকাদ্দেস জামে মসজিদের ইমাম। এতে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ জনে।
এদিকে হামলার ঘটনায় নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে সোমবার রাতে গোয়ালন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে হত্যার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ, লাশ পোড়ানো, সম্পত্তি ক্ষতিসাধন, চুরি এবং জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলার বড় ঠাকুরকান্দির মাওলানা বাহাউদ্দীনের ছেলে মো. আব্দুল লতিফ (৩৫), ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার হাজী গনি শিকদারপাড়ার মজিবর শেখের ছেলে মো. আসলাম শেখ (২৬), গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আলম চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল মন্ডলের ছেলে অভি মন্ডল রন্জু (২৯), পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ান মোল্লারপাড়ার আ. মালেক ফকিরের ছেলে সাগর ফকির (২১)।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর ইমান আকিদা রক্ষা কমিটির ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা দরবার শরীফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, এবং কবর থেকে উত্তোলন করা নুরাল পাগলের লাশ মহাসড়কের পদ্মা মোড়ে পুড়িয়ে ফেলে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত এবং ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহত হন।
মন্তব্য করুন