নূরাল পাগলের দরবার : কবর থেকে মরদেহ পোড়ানো পর্যন্ত এক অস্থির অধ্যায় - Rajbari
রাজবাড়ী বিডি ডেস্ক
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৬:২৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নূরাল পাগলের দরবার : কবর থেকে মরদেহ পোড়ানো পর্যন্ত এক অস্থির অধ্যায়

কামাল হোসেন : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় নূরাল পাগলার দরবার, একসময় যা ছিল ভক্ত-অনুসারীদের ভক্তি-আশ্রয়ের স্থান। কিন্তু অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে সেটিই পরিণত হলো উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে। কবর নির্মাণ থেকে শুরু করে মরদেহ উত্তোলন ও পোড়ানো, পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার, আদালতে জবানবন্দি, সবকিছু মিলিয়ে দেশ জুড়ে এই ইস্যু এখন আলোচনার শীর্ষে।
জানাগেছে, ৮০ দশকে এই নূরাল পাগলা নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করা, কালেমা ও আযান বিকৃত করে পড়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা। জনতার তোপের মূখে ওই সময় এলাকা ছেড়ে চলে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে মুসলেকা দিয়ে তিনি পূনরায় এলাকায় ফিরে আসেন। এবং পূনরায় তার কার্যক্রম শুরু করেন। এ বিষয়টি মাঝে মধ্যেই জনতার মাঝে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি করলেও তেমন কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি ওই দরবার নিয়ে। তবে গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে নুরুল হক ওরফে নূরাল পাগলা মারা যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা জন্ম দেন। তার পরিবার এবং তার ভক্তবৃন্দরা ওই দরবারের ভেতরে তাকে দরবারের ভেতরে কবর দেন। শুধু কবরেই থেমে থাকেনি তাঁর পরিবার ও ভক্তরা, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনায় তার কবর দেন। পাশাপাশি এই দরবারে পূর্বের ইমাম মেহেদী লেখা একটি সাইনবোর্ড দেওয়া হয়। এখান থেকেই মূলত শুরু হয় বিতর্ক।
এরপর থেকেই স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই নির্মাণকে ইসলামী আকিদার পরিপন্থী বলে দাবি করেন। তাঁদের মতে, এটি বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি বাড়াতে পারে। দিন দিন বিরোধ বাড়তে থাকে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসেন জেলা প্রশাসন। তারা এই সমস্যা সমাধানে নূরুল হক ওরফে নূরাল পাগলার পরিবারের লোকজন ও ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির জেলা ও গোয়ালন্দ উপজেলা নেতৃত্ববৃন্দের সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা মডেল মসজিদে একাধিকবার বসেন।
এ আলোচনার ভিত্তিতে কবরের রং পরিবর্তন ও সাইনবোর্ড নামিয়েও ফেলা হয়। তবে কবর নিঁচু করার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সময় ক্ষেপণ করছিলেন। এমতাবস্থায় জেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দরা গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দরা ঘোষণা করেন আগামী বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে আমাদের সকল দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুম্মার নামাজের পর রাজবাড়ী পৌর শহরের আজাদী ময়দানে এবং গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব চত্ত্বরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন বলে ঘোষণা দেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশের পরও আগামী বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে তাদের সকল দাবি দাওয়া মেনে নেওয়া না হলে আগামী শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) জুম্মা নামাজের পর নূরুল হক ওরফে নূরাল পাগলার কবর গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য মার্চ ফর গোয়ালন্দ ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির আহবায়ক মাওলানা মোঃ ইলিয়াস আলী মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও রাজবাড়ী-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম, ডা. আবুল হোসেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজবাড়ী জেলা শাখার সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী ওলামাদল জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনাস খান, খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ নোমানী, রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব মোবাইদুর রহমান মিরাজ, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. নাসির মিয়া, এনসিপির সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মুফতি আবু তাহের, খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি আ. গাফফার, ইমাম হাফেজ মাওলানা আ. কুদ্দুস মিয়াসহ আরও অনেকে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ওই সংবাদ সম্মেলনের পর নূরুল হক ওরফে নূরাল পাগলার পরিবারের লোকজন তরিঘরি করে ওইদিনই নূরাল পাগলের কবর সমতল ভূমিতে নামনোর কার্যক্রম শুরু করেন এবং শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই কবরটি সমতল ভূমিতে নামিয়ে আনেন। পাশাপাশি ওই দিন সকাল ১১ টার দিকে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দরবারের ভক্ত আল-আমিন বলেন, আলেম-ওলামাদের প্রতিটি দাবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কবর নিচু করা, দেয়ালের রঙ পরিবর্তন ও সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। এবং তার এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সকলকে দরবারটি পরিদর্শনের আহবান জানান।
এরপর বেলা ১২ টার দিকে, জেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির সদস্য, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও রাজবাড়ী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম ও উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি সদস্য কে এ মুহিত হিরা এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা দরবারটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ দাবিই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এই দরবারে যেন আযান ও কালেমা বিকৃত না করা হয় এবং অনৈসলামিক কোন কার্যকম যেন পরিচালিত না হয় তার দাবি  জামান, নূরাল পাগলার পরিবারের সদস্যদের কাছে। এই দাবির বিষয়েও পরিবারের সদস্যরা তাকে আস্বস্ত করেন। এবং ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’সহ পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ওই ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে তৌহিদি জনতার ব্যানারে গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মুসুল্লীরা, একপর্যায়ে ওই মিছিলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া শুরু হলে এবং দরবার মূখী হলে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন তাদের বাঁধা দেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপর হামলা করেন এবং পুলিশের একটি ও উপজেলা প্রশাসনের একটি গাড়ি ভাঙ্চুর করেন। সেই খান থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা নূরুল হক ওরফে নূরাল পাগলার দরবারের চারিপাশ ঘিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন একপর্যায়ে  দরবারে প্রবেশ করে ভাঙচুর, ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ দরবারের কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। এবং ওই দরবারটিতে ব্যাপক লুটপাট করে বিক্ষুব্ধ জনতারা। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা নূরাল পাগলে মরদেহ কবর থেকে তুলে টেনে হেচড়ে পদ্মার মোড় এলাকায় ঢাকা খুলনা মহাসড়কের উপর নিয়ে মরদেহটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসময় বিক্ষব্ধরা ব্যাপক উল্লাস করেন। এ হামলার ঘটনায় দরবারের একজন ভক্ত মোঃ রাসেল মোল্লা গুরুতর আহত হন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এবং এ হামলায় ৫ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৫০ এর অধিক মানুষ আহত হন।পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে যৌথবাহিনী।
ওই রাতেই গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ পরিদর্শক মোঃ সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙ্চুরের ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথভাবে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। প্রথম দফায়, গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিরু মৃধা, উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ মৃধা, শাফিন সরদার, এনামুল হক জনি, কাজী অপু, দ্বিতীয় দফায়, গত রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) হায়াত আলী মৃধা, জীবন সরদার, সাগর ফকির, বিল্লু, সাইফুল ইসলাম শুভ, ফেরদৌস সরদার, আলমগীর গাজী ওরফে পাগলা আলম, সোহান সরদার ও রিয়াজ হোসেন রিতান্ত ও তৃতীয় দফায়, গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আসলাম শেখ ও শহিদুল ইসলাম ওরফে বুদ্দুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত কাজী অপু ও বিল্লু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়াও গতকাল সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রাসেল মোল্লার পিতা মোঃ আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকার বড় ঠাকুরকান্দি গ্রামের মোঃ আঃ লতিফ ও গোয়ালন্দ পৌরশহরের আলম চৌধুরী পাড়ার বিল্লাল মণ্ডলের ছেলে অভি মণ্ডল রঞ্জুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরীফ আল রাজীব।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, রাসেলের বাবার দায়ের করা মামলায় নতুন করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরফলে দুই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। পূর্বের মামলার অনেক আসামিকেই নতুন মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হবে। বাকীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও এ ঘটনায় গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন। এবং একই দিন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সিদ্দিকুর রহমান নূরাল পাগলের দরবার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরু পাগলের দরবারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, এমনকি প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলেও না। তবে কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বা গণগ্রেপ্তার করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সিদ্দিকুর রহমান।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, আপনারা জানেন, এখানে পুলিশ, র‌্যাব ও যৌথ বাহিনী কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই জুমার নামাজের পর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অশান্ত হয়ে যায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। শুধু ফুটেজ নয়, গোয়েন্দা তথ্য ও সব ধরনের ইনফরমেশন চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যিনি প্রকৃত অপরাধী, তিনিই আইনের আওতায় আসবেন— তিনি প্রশাসনের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন।
ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দরবার এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রবেশও সীমিত রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনাটি গোয়ালন্দের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি ভেঙে দিয়েছে। এবং এলাকায় সকলের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে নূরাল পাগলার দরবারকে ঘিরে শুরু হওয়া এই সংকট এখনো পুরোপুরি থামেনি। কবর নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ অল্প সময়েই রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়। ভাঙচুর, মরদেহ পোড়ানো, পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তি— সবকিছু মিলিয়ে এটি রাজবাড়ীর সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজবাড়ীতে তেলের পাম্পে দীর্ঘ হচ্ছে লাইন, সংকটে কৃষি ও পরিবহন

রাজবাড়ীতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতকে উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৫

তীব্র গরমে অসহনীয় লোডসেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ট

রাজবাড়ীতে ১০টি পাম্পের একটিতেও তেল নেই; ভোগান্তি চরমে

রাজবাড়ীতে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ২

কৃষক কার্ড নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা: ড. তিতুমীর

শিশুদের হাম বাড়ছেঃ রাজবাড়ী জেলার অভিভাবকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

হা‌মের উপসর্গ নি‌য়ে ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতা‌লে ৭ জন সহ ১২ শিশু ভ‌র্তি

পাংশায় শতাধিক মা ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ

১০

গোয়ালন্দে ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

১১

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর পদ্মায় ভাসলো রিক্সাচালকের মরদেহ

১২

গোয়ালন্দে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে পদ্মায় অভিযানে ৩ জেলে দণ্ডিত

১৩

পুলিশ সদস্যের সাথে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ

১৪

দৌলতদিয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ড, লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

১৫

পাংশায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৫ জন আটক

১৬

নেশার টাকা না দেওয়ায় ঘুমন্ত মা’কে কুপিয়ে গুরুতর জখম

১৭

পদ্মা নদী থেকে ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

১৮

যোগদান করেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

১৯

গোয়ালন্দে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে নবাগত জেলা প্রশাসক

২০