স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে মহাসড়কে এনে পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (০৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোয়ালন্দ পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাজীপাড়ার কাজী আরিফের ছেলে শান্ত কাজী (১৯) ও ফরিদপুর সালথা উপজেলার ঘটরকান্দা এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আনিচুর রহমান (৩০)।
গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের দুজনকেই নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে তিন থেকে চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুর মামলায় ১৬ জন এবং নিহত রাসেলের বাবার দায়ের করা হত্যা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লাশ উত্তোলন ও পোড়ানোর মামলায় সর্বশেষ দুইজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ-প্রশাসনের ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা গোয়ালন্দ পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জুরান মোল্লা পাড়া নুরাল পাগলের দরবার শরীফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে দরবার শরীফে সমাহিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে মহাসড়কের পদ্মা মোড়ে এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা উত্তেজিত তৌহিদি জনতা। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন এবং ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টহল জোরদার করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন