রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়ার পোড়াভিটা এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিন সদস্য। এ সময় হাতকড়াসহ একজনকে ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। গত শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গত শনিবারের অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসীর হাসান খান। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া তরুণের নাম মো. ফয়সাল (২৪)। তাঁর বাড়ি পোড়াভিটা এলাকায়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসীর হাসান খান বলেন, গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের নিয়ে পোড়াভিটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় এশিয়া বোডিং থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আশীষ চন্দ্র শীল নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লাইলী বেগমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফয়সাল নামের একজনকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়। বাড়ির পেছনের জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে লাইলীর স্বামীকে আটক করা হয়। তাঁকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন লাইলী। তাঁকেও আটকের চেষ্টা করলে ২৫ থেকে ৩০ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ফয়সালকে ছিনিয়ে নেয় এবং লাইলীর স্বামী পালিয়ে যান। হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিনজন সদস্য আহত হন। অবস্থা বেগতিক দেখে তাঁরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে আসেন।
এ সম্পর্কে রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু আবদুল্লাহ জাহিদ বলেন, ‘স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় ভিড়ের জটলায় পড়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় ফয়সাল নামের একজন পালিয়ে যায়। পরে ঘাট এলাকা থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার হলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’
আবু আবদুল্লাহ জাহিদ আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা চলছে। অভিযানটি যেহেতু একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে হচ্ছিল, সে ক্ষেত্রে এসি ল্যান্ড মহোদয়ও করণীয় নিয়ে ভাবতে পারেন।’
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন