রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল জেলার সাধারন মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল হলেও সোনোলজিস্ট না থাকায় এক বছরের বেশি সময় বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আলট্রাসনোগ্রাম সেবা কার্যক্রম।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত গর্ভবতী মাসহ দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফলে দ্রুত আলট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি সচল করে সুলভ মূল্যে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিত করার দাবি রোগী ও তার স্বজরদের।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সেবা বন্ধ থাকার সুযোগে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি দালাল চক্র। তারা গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের ফুসলিয়ে নিম্নমানের বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে এবং কমিশনের বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এদিকে হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রামের মেশিনারিজ থাকলেও সোনোলজিস্ট না থাকার কারণে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষটি। এখানে ১১০-২২০ টাকায় এই পরীক্ষা করার সুযোগ থাকলেও, দীর্ঘদিন সেবাটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও দরিদ্র রোগীরা।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসকরা রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দিচ্ছেন, কিন্তু হাসপাতালের নির্দিষ্ট বিভাগে গিয়ে রোগীরা জানতে পারেন সেবাটি বন্ধ। বাধ্য হয়ে তাঁদের ছুটতে হচ্ছে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে সরকারি রেটের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা (৫০০ থেকে ৮০০ টাকা) খরচ করে এই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাম সেবা কার্যক্রম। এরআগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের দিয়ে এই সেবা দেওয়া হতো। বর্তমানে গাইনী ওয়ার্ড, জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ রোগী এই সেবা নিতে আসছে।
বালিয়াকান্দি থেকে আসা মনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে এসে শুনি এক বছর ধরে আলট্রাসনোগ্রাম হয় না। বাইরের ক্লিনিকে টেস্ট করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। তারপরও বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে বাইরে থেকে টেস্ট করাতে হচ্ছে।
জাহিদ মিয়া নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, সদর হাসপাতাল নিজেই এখন অসুস্থ। এখানে ডাক্তার নাই, ঔষধ নাই, চিকিৎসা নাই। এক কথায় এখানে কিছুই নাই। কিন্তু আমরা ভরসা করে এসে ফিরে যাই। আমার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর পর আলট্রাসনোগ্রাম করতে বলেছে। কিন্তু হাসপাতালে করতে না পেরে বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমনি বাড়ছে দূর্ভোগ, তেমিন গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত বাড়তি টাকা। রোগীদের দূর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এটির সমাধান করা প্রয়োজন।
সুরঞ্জিত দাস বলেন, শুনেছি হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন অনেক ভাল, কিন্তু ব্যবহার না থাকায় কাজে আসছে না। দীর্ঘ সেটি বন্ধ। এভাবে বন্ধ থাকলে তো মেশিনেরও সমস্যা হবে। তাই না দ্রুত ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম চালু করার অনুরোধ করছি।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ হান্নান বলেন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সংশ্লিষ্ট পদে রেডিওলজিস্ট (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) না থাকার কারণেই মূলত আলট্রাসনোগ্রাম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সংশিষ্ট পদে চিকিৎসক পেলে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
মন্তব্য করুন