রাজবাড়ী সদর উপজেলার ব্রামনদিয়ায় ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া ও কেনা জমি নিয়ে ফজের আলী মোল্লা ও নজর আলী মোল্লা নামে দুই ভাইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য।
ফজের আলীসহ তার পরিবারের অভিযোগ তাদের জমি বুঝিয়ে না দিয়ে বসতঘরসহ তাদের মালিকানা জমির ভেতর দিয়ে দেওয়াল নির্মান করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে প্রতিবেশী নজর আলী সহ তার পরিবার। সম্পর্কে তারা তাদের ভাই-ভাতিজা। কিন্তু এই জমি নিয়ে দেওয়ানী ও বাটোয়ারা মামলা চলছে । তারপরও কয়েকদিন আগে তারা নিজেদের মত করে জমি মাপ দিয়ে তাদের ঘরের ভেতর জমি আছে দাবি করে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু ওই মাপ সঠিক হয় নাই।
এদিকে নজর আলীসহ তার পরিবারের দাবি, শাহিনের ঘর করার সময় বাঁধা দিলেও তারা শোনেন নাই। উভয় পক্ষ সহ এলাকার লোকজন বসে আমিন দিয়ে মেপে তারা জমি পেয়েছেন এবং তার ভিত্তিতেই দেওয়াল নির্মান করেছি। তাদের যদি মাপ পছন্দ না হয় তাহলে আবার মেপে বুঝে নিক এবং সেই তাদের জমিও বুঝিয়ে দিক।
জানাগেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ব্রামণদিয়ায় মৃত নিজাম উদ্দিন মোল্লার ছেলে আজিবর মোল্লা, ফজের আলী মোল্লা, নজর আলী মোল্লা, নাছের আলী মোল্লা, মরিয়ম ও জহুরো এই ৬ ভাই বোন ওয়ারিশ সুত্রে বসতবাড়ীর ৪৩ শতাংশ জমি পান। এরমধ্যে ভাইদের অংশে রয়েছে পৌনে ৯ ও বোনদের অংশে সোয়া ৪ শতাংশ জমি। ফজর আলী তার ভাই নাছের আলী ও বোন জহুরোর অংশ কিনে নেন। ফলে তার অংশ গিয়ে দাঁড়ায় সাড়ে ২১ শতাংশ এবং অপর এক ভাই ও বোনের অংশ কিনে নেন নজর আলী। ফলে তারও অংশ হয় সাড়ে ২১ শতাংশ জমি।
নজর আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এই বাড়ীর ৪৩ শতকের অর্ধেক জমির অংশিদার আমরা। ঘর তোলার জন্য গত সপ্তাহে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিসহ আমিন নিয়ে বসে মেপে আমাদের অংশ বুঝে নিয়েছি। মাপে আমার চাচাতো ভাই শাহিনের ঘরের একটি রুমের প্রায় পুরোটাই আমরা পেয়েছি। এখন তারা মানছে না। কিন্তু আমি জায়গা ছাড়বো না। তাদের সমস্যা হলে মেপে আমার জমি বুঝিয়ে দিক।
ফজের আলীর ছেলে শাহিন ফজর বলেন, আমাদের জমিতে ঘর তুলেছি অনেক আগে। তখন কেউ বাঁধা বা জমি দাবি করে নাই। এখন চাচা নজর আলী ও তার ছেলে আশরাফুল বলছে আমার ঘরের ভেতরে নাকি তাদের জমি আছে। গত কয়েকদিন আগে আমার ঘরের একরুম সহ দখলে থাকা জমির ভেতর দিয়ে তারা দেওয়াল নির্মাণ করেছে। কিন্তু এই জমি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে দেওয়ানী মামলা চলছে। পরবর্তীতে সমস্যা দেখে বাটোয়ারা মামলা করেছি। কিন্তু তারা আইন অম্যান্য করে আমার ঘরের ভেতর জমি আছে দাবি করে দেওয়াল তুলেছে। আমি এর সঠিক বিচার এবং জমি বুঝে পেতে চাই। এ নিয়ে তারা আমাদের হুমকি ধামকিও দিচ্ছে।
স্থানীয় মেম্বর আবু সাঈদ বলেন, ওই দুই পরিবারের ওয়ারিশের জমি নিয়ে ঝামেলা আছে। স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয় নাই।
মন্তব্য করুন