রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো নিয়ে বিরোধের জেরে বাঁশের বেড়া দিয়ে ৪ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বাড়ির একমাত্র প্রবেশ পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করায় প্রায় এক বছর ধরে তোমছেল মন্ডল, চগর শেখ, সাগর শেখ ও হাসিনা বেগমের পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন সদস্য হাঁটু পানি দিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছে। শুধু তাই নয়, অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামের তমছেল মন্ডলের বাড়ীর ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ–এর লাইন ও খুঁটি বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল, শামীম, সোহেল, রফিক, রহমান, আকতার, ই¯্রাফিল, ইমরানের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তমছেল মন্ডলের ঘরের উপর দিয়ে জোড়পুর্বক বিদ্যুতের লাইন টাঙ্গানো হয়। বাঁধা দিতে গেলে তমছেল মন্ডলের মেয়ে তানজিনা খাতুনকে বাবুর নির্দেশে মারধর করা হয়। এদিন তমছেল মন্ডলের ছেলে সুজন মন্ডল ও অন্যান্যরা বাড়ীতে না থাকায় বিনা বাঁধায় খুঁটি ও তার টাঙ্গায়। এনিয়ে তমছেল মন্ডলের ছেলে সুজন মন্ডল বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরই জেরে প্রতিপক্ষরা ওই পরিবারগুলোর যাতায়াতের একমাত্র সাধারণ প্রবেশপথে বাঁশের শক্ত বেড়া তৈরি করে পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে শুকনো পথ দিয়ে যাতায়াতের কোনো উপায় না থাকায়, নিরুপায় হয়ে পেছনের একটি নিচু মাঠের হাঁটু সমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে তাদের প্রতিনিয়ত বাইরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য সাগর শেখ ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, যারা আমাদের বাড়ির পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা এখন বন্দী জীবন পার করছি। হাঁটু পানি ভেঙে আমাদের বাইরে যেতে হয়। এর ওপর আমাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আতঙ্কে রাতে ঘুমাতেও পারছি না। যারা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই, তারপরও তারা আমাকে মারধর করে কিস্তির টাকা পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়েছে।
আরেক সদস্য সুজন মন্ডল বলেন, আমার বাড়ীর ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার টাঙ্গায়। আমি তাদেরকে পথের পাশ দিয়ে তার টাঙ্গানোর অনুরোধ করলেও রাখেনি। আমার পরিবারের সদস্যদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়াসহ প্রবেশপথে বেড়া দিয়েছে। এখন হাটুপানিতে চলাচল করছি। শুধু তাই নয় আমার ছোট ভাইকে বিদেশে কাগজ করে দেওয়ার কথা বলে আক্তার ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কাগজ করতে ব্যর্থ হয়ে বাড়ীতে এসে বেকার থাকছে আমার ভাই। টাকা না দেওয়ার বাহানায় নানা ভাবে হয়রানী করছে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন দুদফা ডেকে নিয়ে যান। সেখানে প্রশাসন উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানির আয়োজন করলে অভিযুক্ত ইসরাফিল ও ইমরান দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেড়া অপসারণ করার শর্তে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা এখনো সেই বেড়া অপসারণ করেনি। উল্টো প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে বেড়া বহাল রাখা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে নানাভাবে হুমকি–ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
বেদেনা বেগম বলেন, রাজবাড়ী–২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন–অর রশীদ একজন মানবিক মানুষ। এ সকল জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তার সুনজর দাবী করছি।
সরেজমিনে গেলে অভিযুক্তদের মধ্যে আকতার বলেন, আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি, এটা প্রশাসনের কোন ক্ষমতা নেই, বেড়া অপরসারণ করে। এখানে আসতে হলে আমাদের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। এক ঘর লোক আমাদের সাথে বিরোধ করতে আসে। আমরা বেড়া সরাবো না কারো ক্ষমতা থাকলে সরিয়ে দেখাক। তিনি আরো বলেন, ওরা আমাদের নামে তিনটা মামলা দিয়েছে আমরা দিয়েছি। ওরাই আমাদের উপর অন্যায় ও নির্যাতন চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত মুক্তি বলেন, আমাদের নামে মামলা দেওয়ায় আমরা বেড়া দিয়েছি। তবে বিদ্যুতের তার ঘরের উপর দিয়ে টাঙানোর বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান।
নারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চুন্নু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। একটি বিদ্যুৎ খুঁটির জন্য ৪টি পরিবারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং হাঁটু পানি দিয়ে চলতে বাধ্য করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বেড়াটি অপসারণ করা এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করা। আমি বিষয়টি জানতে পারলাম, দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। নতুন আসছি। মুচলেকা দেওয়ার পরও বেড়া অপসারণ না করা আইনের অবমাননা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দ্রুতই ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন