স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থেকে বদলি করে তাকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখায় পুলিশ পরিদর্শক (ক্রাইম) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন (বিপি-৮২১১১৩৯০৮৮) কে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ২৩ আগস্ট মারা যান গোয়ালন্দের নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল। এরপর তার ভক্তরা দরবারের ভেতরে তাকে কবর দেন এবং কবরের ওপর প্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় আলেম সমাজ আপত্তি জানাচ্ছিলেন এবং কয়েকদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পরে গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালায় এবং নুরাল পাগলের কবর ভেঙে মরদেহ উত্তোলন করে তা পুড়িয়ে ফেলে। এ সময় দরবারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভক্ত রাসেল মোল্লা নামে একজন নিহত হন। গোয়ালন্দ থানা পুলিশের ওপরও হামলা হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর নিহত রাসেলের পিতা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রচারিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, “দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনেই গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জকে বদলি করা হয়েছে। তিনি এক বছর ধরে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এই বদলির সঙ্গে গত ৫ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।”
মন্তব্য করুন