গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে হোসনে আরা হাসি (২৮) নামের এক যৌনকর্মীর মাথা থেঁতলানো রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যৌনপল্লীর মো. রুবেল নামের এক বাড়িওয়ালার বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
থানা পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর মো. রুবেলের বাড়ীর একটি কক্ষে এক যৌনকর্মী মৃত অবস্থায় পড়ে থাকার সংবাদ দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত হাসির মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং এতে মাথা থেঁতলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হাসিকে তার নিজ কক্ষে বিছানার উপর মৃত অবস্থায় পায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। ক্রাইমসিন ইউনিট সদস্যরা বিভিন্ন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্রাইমসিনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে কথিত প্রেমিকের মারপিটে গুরুতর আহত সোনিয়া আক্তার (৩০) নামে এক যৌনকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট রাতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সোনিয়া আক্তারকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন তার বাবু (কথিত প্রেমিক) মো. জুয়েল। এসময় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। পরে সেখানেও তার অবস্থার অবনিত হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করে চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন