রুবেলুর রহমান : বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ু প্রতিকুল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্পের আওতার রাজবাড়ীতে ১২০ জন পেঁয়াজ চাষীকে নিয়ে শেষ হয়েছে দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ের হলরুমে হাতে কলম ও এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে শেষ হয় এই প্রশিক্ষণ। এ সময় আধুনিক পেঁয়াজ সংরক্ষণ (এয়ারফ্লো) মেশিনের সুবিধা সম্পর্কে ধারনাসহ শেখানো হয় ব্যবহার ও রাখার উপায়।
জানাগেছে, বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ু প্রতিকুল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন এক বছর মেয়াদি প্রকল্প গ্রহন করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট (বিসিসিটি। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ যেমন নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি কমবে আমদানি নির্ভরতা। যার অংশ হিসাবে রাজবাড়ীতে ১২০ জন কৃষককে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের এয়ারফ্লো মেশিনের ব্যবহার হাতে কলমে দেখানো হয়। এ সময় রাজবাড়ী পাংশার মেসার্স হোসেন ইঞ্জিনিয়ারিং, শাহীন মেশিনারীজ এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও ফরিদপুরের আর কে মেটাল তাদের তৈরিকৃত পেঁয়াজ সংরক্ষণ (এয়ারফ্লো) মেশিন প্রদর্শণ করেন। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে রাজবাড়ীর ৬০০ জন কৃষক পাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণ মেশিন। ফলে সংরক্ষণের ঘর ও মেশিন স্থাপনে প্রকল্প থেকে প্রতিজন কৃষককে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে ২৭ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে নিজেদের পছন্দের কোম্পানি বা ওয়ার্কশপ থেকে কিনতে পারবেন এয়ারফ্লো মেশিন। প্রতিটি মেশিনের অধীনে আড়াই থেকে তিনশ মন পেঁয়াজ প্রায় ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবে কৃষক। এ সময় রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম রাসূল, প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ মাহফুজুর রহমানসহ কৃষক ও এয়ারফ্লো মেশিন তৈরির ৩টি ইঞ্চিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন