রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবির ঘটনার পঞ্চম দিনে রোববার (২৯ মার্চ) সারাদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন অংশিজনের সাথে কথা বলছেন নৌমন্ত্রণালয় গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত দল। তদন্ত দলের নেতৃত্বে রয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।
রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তদন্ত দলের প্রধান মো. মুহিদুল ইসলাম জানান, যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। আমরা আজ (রোববার) সারাদিন সঠিক ঘটনা উদঘাটনে বিভিন্ন ব্যাক্তির সাথে কথা বলেছি। এখনো আরো অনেকের বক্তব্য গ্রহনের বাকি আছে। আমাদের পক্ষ থেকে ঘটনার জন্য দায়ি ও গাফিলতির বিষয় তুলে আনার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপরদিকে টানা ৫ দিন উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে রোববার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিক সমাপ্ত ঘোষণা করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৫ দিনের অভিযানে মোট ২৬ জনের মড়দেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে নৌ অধিদপ্তরের স্পিডবোটে তদন্ত কমিটির প্রধান ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসেন। এসময় তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন।
তদন্ত দল দুর্ঘটনার দিন সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির অবস্থান, নদীতে নিমজ্জিত হওয়ার স্থান, পন্টুনের স্থায়িত্ব, ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর এপ্রোচ সড়ক এবং জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করে। এছাড়া ঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াকিটকিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাও যাচাই করেন।
পরে টার্মিনালে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খুঁটিয়ে দেখেন তারা। এরপর তিনি গোয়ালন্দে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে সারাদিন ব্যাপি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাক্তিদের বক্তব্য গ্রহন করেন।
এর আগে রোববার বিকেলে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, উদ্ধারকারী দল তাদের সর্বোচ্চ মেধা ও চেষ্টা দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। এখন আর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার বাস্তবতা নেই বলে তিনি জানান। তবে তিনি উদ্ধার অভিযান বন্ধের ব্যাপারে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনে সাইড হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। পরে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যুক্ত হলে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো স্বজনদের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন