রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফরিদপুর মহাসড়কের পাশে বিএনপি নেতার ভাঙারির দোকানে মিললো ভূমি অফিসের চোরাইকৃত মালামাল। এ ঘটনায় পুলিশ হালিম নামে একজনকে আটক করে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আইয়ুব আলী খান এর ছোট ছেলের অনিকের ভাঙারির দোকান নামে পরিচিত।
দৌলতদিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মোঃ জিলাল ও রাজিব জানান, রোববার সকালে অফিসে এসে বিদ্যুতের তার কাটা দেখেন। এরপর অফিসে এসে দরজা ভাঙা ও জানালা কাটা দেখে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা এসে দেখে অফিসের বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়ে গেছে। এসময় তারা উদ্ধারকৃত মালামাল দেখে অফিসের চুরি হওয়া মালামাল বলে নিশ্চিত করেন।
থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে তারা এলাকার সকল ভাঙারির দোকান গুলোতে চুরি যাওয়া সামগ্রী খোঁজ করেন। এসময় তারা গোয়ালন্দ উপজেলার ব্যাপারী পাড়ার পুলিশ কর্মকর্তা মো. আহাদের গ্রামের বাড়ি থেকে চুরাইকৃত মোটর এখান থেকে উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরাইকৃত এসব পন্য নিয়মিত এখানেই বেচাকেনা হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়া একটি কক্ষে আইয়ুব আলী খান, তার ছেলে আরিফ খান ও অনিক খানের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া এখানে ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়।
এ দোকানে আরও মোটর, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মূল্যবান যন্ত্রাংশ, ফ্যান, দরজা-জানালার গ্রিল, টিউবওয়েল, যানবাহনের যন্ত্রাংশ, সাইকেল-রিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহনের চাকা, বিদ্যুত সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, এল্যুমিনিয়াম ও তামার দ্রব্য, লোহারপাত ও পাইপ, রড, গ্যাসের সিলিন্ডার, রাস্তায় দিক নির্দেশনা সম্বলিত লোহার পাইপ ইত্যাদি পাওয়া যায়। এলাকাবাসির অভিযোগ, চোরাইকৃত এসকল পণ্য এখানে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে বেচাকেনা হয়।
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, ভাঙারির দোকানের থাকবে বিভিন্ন প্লাস্টিক, টিন ও পুরাতন জিনিসপত্র বিক্রি হয়। কিন্তু এখানে আমরা দেখছি মোটর, পাইপ, ফ্যান ও কম্পিউটারের মতো জিনিস। এসময় তিনি ১ ঘন্টার মধ্যে হারানো ১১ টি জিনিসের মধ্যে উদ্ধারকৃত ৯ টি পন্যের বাকি দুটি পন্য অর্থাৎ কম্পিউটার হাজির করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় দোকান সিল গালাসহ আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
মন্তব্য করুন