দৌলতদিয়ায় বাস ডুবিতে নিহতদের স্মরণ ও নিরাপদ সড়ক এবং জেলা বাস মালিক সমিতির সিন্ডিকেটের প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা বাস মালিক সমিতির সিন্ডিকেট বন্ধ করে উন্নতমানের বাস সার্ভিস চালু, অদক্ষ চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ, চালকের সহকারী হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ সহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়। সেই সাথে দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মানবন্ধনকারীরা।
তারা বলেন, রাজবাড়ীতে সোহার্দ্য, রাবেয়া, জামান, সপ্তবর্ণা সহ মাত্র ৪/৫ টি বাস চলাচল করে। এই বাস গুলোর মান খুবই খারাপ। দেশে অনেক ভাল ভাল বাস কোম্পানি রয়েছে। যাদেরকে রাজবাড়ী দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হয় না। আমরা উন্নতমানের বাস সার্ভিস চাই। পুরাতন মানহীন সার্ভিস নিতে চাই না। রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ভাল সার্ভিস পাচ্ছি না। কিন্তু টিকেটের দাম তো ঠিকই উন্নতমানের বাস সার্ভিসের মত নিচ্ছে। তাছাড়া তারা ভাল মানের বাসও সড়কে নামাচ্ছে না। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবে না। দেশের অন্যান্য জেলার মত রাজবাড়ীতেও সব ভাল বাস চাই।
মানববন্ধনে বাস ডুবিতে নিহত জোস্না বেগমের শিশু সন্তান আলিফ, জোস্নার মা শাহিদা বেহম, পৌর বিএনপি নেতা এম এ খালেদ পাভেল, শিক্ষার্থী তানভির মাহাদি রলিফ, মাহিন শিকদার তামিম, হাসিবুল ইসলাম শিমুল বক্তব্য রাখেন। এ সময় নিহত জোস্না বেগমের বড় ছেলে জিসান সহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা জেলা বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে যান তাদের দাবি সমুহ উপস্থাপনের জন্য।
জানাগেছে, ২৫ মার্চ বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ঢাকাগামী সোহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাট দিয়ে ফেরিতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় নারী-শিশু ও গাড়ির চালক সহ ২৬ জনের মরহেদ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি।
মন্তব্য করুন