রাজবাড়ীতে ভোজ্যতেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোক্তারা পড়েছেন দুর্ভোগে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলাররা তাদের তেল সরবরাহ ঠিকমতো করছেন না। ডিলাররা বলছেন, কোম্পানি থেকে প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। কদিন আগেও ছিল ১৬৯ টাকা লিটার। বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। তবে সংকট রয়েছে। অনেক ক্রেতা বোতলজাত তেল না পেয়ে খোলা তেল কিনছেন।
রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা শফিকুল হক জানান, শুক্রবার বাজারে গিয়ে বোতলজাত তেল কিনতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত খোলা তেল কিনেছেন। রাজবাড়ী বাজারের মুদি দোকানি আনন্দ দত্ত জানান, প্রায় এক মাস ধরে তেলের সংকট চলছে। কোনো কোম্পানিরই পাঁচ লিটারের ক্যান পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। চাহিদার ৪ ভাগের ১ ভাগ দেন ডিলাররা। এক লিটার ও দুই লিটার ক্যান নিতে হলে সঙ্গে অন্যান্য পণ্য গছিয়ে দেওয়া হয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে খোলা তেলের কোনো সংকট নেই। দাম একটু বেশি হলেও তা পাচ্ছেন।
রাজবাড়ী শহরের তীর সয়াবিন তেলের পরিবেশক আলতাফ হোসেন জানান, তাঁর এলাকায় প্রতি মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের চাহিদা প্রায় এক কোটি টাকার। অথচ কোম্পানি সরবরাহ দিচ্ছে মাত্র ১৫ লাখ টাকার। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের চেয়ে খোলা তেলের দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। এই মূল্য পার্থক্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেলের পরিবর্তে খোলা তেল বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, এ জেলায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মূলত যে জেলায় দায়িত্বে রয়েছেন, সেখানে ভোজ্যতেলের সংকট রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের কাছে তেল আনতে গেলে তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে– এমন অভিযোগ শুনেছেন। রাজবাড়ীর বিষয়টি তিনি প্রথম শুনলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ডিলার ব্যবসায়ী সবার সঙ্গে কথা বলবেন। খতিয়ে দেখবেন ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন কিনা। তেমন হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন