আজও রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির বৃহত্তম সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে প্রতিমণে দেড় কেজি (ধলতা) ওজনে বেশি নেবার অভিযোগ ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বালিয়াকান্দির সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে এসে এ অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ সময় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কোন নজরদারি নাই। কালুখালীতে ধলতা নাই, কিন্ত সোনাপুরে নিচ্ছে। ধলতা না দিতে তারা আন্দোলন করেও কোন লাভ হয় নাই। মণে আজও দেড় কেজি বেশি দিতে হচ্ছে। আবার বস্তায় কয়েকটা পেঁয়াজ পচা বের হলে কয়েক কেজি বাদ দিচ্ছে। ধলতা পুরোপুির বন্ধ চাই।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রশাসন ও কৃষকদের সাথে আলোচনা করে মণে এক থেকে দেড় কেজি বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের কোন অভিযোগ নাই। তবে ধলতা বাদ দিলে সারাদেশে বাদ দিতে হবে। এক বাজারে থাকবে এক বাজারে থাকবে না। এটা যেন না হয়। এছাড়া আজ বাজার কিছুটা বেড়েছে।
জানাগেছে, সারাদেশের প্রায় ১৬ শতাংশ এবং উৎপাদনের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থান রাজবাড়ীর। জেলার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় বালিয়াকান্দি, কালুখালী পাংশায়। ফলে এই জেলা থেকে দেশের পেঁয়াজ চাহিদার বৃহত্তর একটি অংশ পুরন হয় । একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘ দিন ধরে কৃষকদের ঠকিয়ে মনে ২ থেকে ৩ কেজি বা কিছু কিছু সময় তারচেয়েও বেশি পেঁয়াজ নেয়। গত ২৭ এপ্রিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) নাসির-উল-দৌলা স্বাক্ষরিত পেঁয়াজ ও আম সহ বিভিন্ন কৃষি পন্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ওজনের অনিয়ম সংক্রান্ত জেলা প্রশাসকদের একটি চিঠি ইস্যু করেন। যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন রাজবাড়ীর পেঁয়াজের হাট গুলোতে ধলতা বন্ধে প্রচারনা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরপরেই হঠাৎ করে মঙ্গলবার (৫ মে) জেলার বালিয়াকান্দির বৃহত্তম পেঁয়াজের সোনাপুর, বহরপুর, জঙ্গল সহ বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা তাদের ঘর ও পেঁয়াজ কেনা-বেচা বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় কৃষকরা পেঁয়াজ-রসুন বাজারে এনে বিক্রি করতে না পেরে ফেরত নিয়ে যেতে হয়েছে। এতে হাট-বাজার গুলোতে তৈরি হয় ত্রিমুখী উত্তেজনা। একই কারণে বুধবার (৬ মে) সকালে কালুখালী বাজারে পেঁয়াজ কেনা-বেচা বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করে ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। এ সময় বাজারে পেঁয়াজ এনে বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েন কৃষকরা। পরে তারা পেঁয়াজের মনে বাড়তি (ধলতা) বন্ধের দাবিতে কালুখালীতে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা।
ব্যবসায়ী হারুন খান ও রেজাউল বলেন, প্রশাসন ও কৃষকদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত হয় তারা ৪১ কেজি ৫০০ গ্রাম আনলে ৪০ কেজির দাম পাবে। কিন্তু তারা আনতেছে ৪৬ কেজি ৫০০ গ্রাম। দাম পাচ্ছে ৪৫ কেজির। কাচামালের ঘাটতি হয় বিধায় একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। ধলতা উঠিয়ে দিলে সারাদেশে উঠাতে হবে। এক জেলা বা এক হাটে থাকবে আরেক হাটে থাকবে না এটা নিয়মের মধ্যে আসে না। আজ বাজারে ভাল পেঁয়াজ ১২০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৬৫০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে।
কৃষক জাকির বলেন, প্রথমে কথা হয় প্রতিমণে ২০০ গ্রাম বেশি নেবার। কিন্তু আজ হাটে আনার পর এক কেজি ৫০০ গ্রাম বেশি নিচ্ছে। তাহলে আন্দোলন করে লাভ কি হলো। দুই হাট পার হলে আগের মত নেওয়া শুরু হয়ে যাবে। প্রশাসন কঠোর ভাবে তদারকি করলে ব্যবসায়ীরা মানতে বাধ্য। কিন্তু প্রশাসন হাটে আসে না। তারা উপরে বসে কথা বলে মাঠে আসে না। বাজার কমিটির সাথে কথা বলে কৃষকের সাথে বলে না। কৃষককের দূর্দশা সারাজীবন থেকেই গেলো।
আরেক কৃষক আব্দুল মন্ডল বলেন, গত হাটে আড়তদাররা ঘর বন্ধ রেখেছিল। কোন পেঁয়াজ কেনে নাই। আজ বিক্রি করলাম সেখানে মণে দেড় কেজি বেশি নিয়েছে। পাশবর্তী কালুখালীতে ধলতা নাই, কিন্তু সোনাপুরে নিচ্ছে। আমরা চাই ধলতা উঠে যাক।
কৃষক মনিরুউদ্দিন বলেন, ধলতা নেবার কথাই ছিল না। কিন্তু আজও বেশি নিচ্ছে। টাকার প্রয়োজনে বাজারে আমাদের পেঁয়াজ আনতেই হবে। কিন্তু ন্যায্য দাম বা মূল্যায়ন হই না। আসলে হরতাল কৃষকদের নাই, হরতাল আছে ব্যবসায়ী ও সরকারের।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মণপ্রতি বেশি নেবার অভিযোগের বিষয় শুনেছি এবং খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে বসে কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই। ৪০ কেজি মানে ৪০ কেজি। বেশি নেবার সুযোগ নাই এবং তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
মন্তব্য করুন