রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ফসলি মাঠের পরিত্যক্ত জমিতে আগাছানাশক ওষুধ স্প্রে করায় ৩২ জন কৃষকের প্রায় ৮.৮৩ একর জমির পাট ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে চাঁন মিয়া নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দাবি, ওষুধ স্প্রে করার সময় তারা নিয়মনীতি মানে নাই । ওই ওষুধ বাতাসে উড়ে আশপাশের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ পাখি জমির পাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখন এই পাঠ আর হবে না। ফলে সুষ্ঠ তদন্ত সহ ক্ষতিপূরন দিতে হবে। চলতি মৌসুমে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ধুলাঘাট বিলের প্রায় পুরো এলাকায় চাষ হয়েছে পাটের। পেঁয়াজ বা অন্যান্য ফসলের পর এখানে পাট চাষ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই মাঠে সারুটিয়া গ্রামের চাঁন মিয়া তার জমিতে আগাছানাশক ওষুধ স্প্রে করে। এর কিছুদিন পর ওই জমির আশপাশে থাকা জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহন এলাকার বেশির ভাগ কৃষকের জমির পাট নষ্ট হতে শুরু করে। ওষুধের প্রভাবে পাট গাছের পাতা কুকুরে গেছে এবং বেড়ে উঠছে না। এতে জমির মালিক ইজাজুল মল্লিক, সবুজ ঘোষ, ইউনুস মল্লিক, রুহুল আমিন, মিরাজ, মোতাহার, মোর্শেদ, বাবু, দুলা মল্লিক, রহমান শেখ, সোহেল শেখ, লিটন মিত্র, স্বপন মেম্বার, নিখিল মিত্র, আবু শেখ, জাকির শেখ, নাজমুল, মাফুজ, মানিক, বাবু শেখ, আবুল, মোফাজ্জেল, মতিন, আলী শেখ, আক্তার, মামুন, মাহাবুল, জিম, রেজাউল, নিজাম মোল্যা, তফিজুল, নাজির, আনিস শেখের পাটক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, সারুটিয়া গ্রামের চান মিয়া তার জমিতে পেঁয়াজ ওঠার পর আগাছা পরিস্কার করতে কি ওষুধ দিয়েছে আমরা জানিনা। কিন্তু এতে তো আমাদের সব পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এই মাঠের ৩০/৩৫ জন কৃষকের ৫০ থেকে ৬০ পাখি জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। আমার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি পাট নষ্ট হয়েছে । এবং আমার পাট মরে যাওয়ার পর জমিতে সম্পূর্ণ ঘাস হয়ে গেছে। পাট গাছের মাথা।গুলো কুকড়ে এবং গাছ মোটা হয়েছে। এছাড়া পাট যতটুকু বেড়ে ওঠার কথা ততটুকু বেড়ে ওঠে নাই। এখন এই পাট আর হবার কোন সম্ভাবনা নাই। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করে একটা ব্যবস্থা নেয়া হোক। আমরা গরিব মানুষ, পাটের উপর অনেকটা নির্ভর করি। কিন্তু এবার আমরা ক্ষতিগ্রস্থ।
আরেক কৃষক ইজাজুল মল্লিক বলেন, চান মিয়া আগাছা দমনে তার জমিতে কীটনাশক দিয়ে আশপাশের প্রায় ৫০/৬০ পাখি জমির পাট নষ্ট করেছে । যখন তার স্প্রে করেছে তখন ম্প্রে নিচু করে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সেটি শোনেন নাই। ফলে বাতাসে এই ওষুধ যতদুর গিয়েছে ততদুর পর্যন্ত পাট নষ্ট হয়েছে। এখন যে অবস্থা এই পাট গুলোর হওয়ার মতো আশা নাই। আমার প্রায় ৩ পাখি জমির পাট নষ্ট হয়েছে। এখন আমরা সবার মাধ্যমে এর ক্ষতিপূরণ চাই। এবং এ বিষয়ে অভিযোগ করবো।
কৃষক সাইফুল মল্লিক বলেন, এই পুরো মাঠজুড়ে পাট চাষ হয়। আগাছা মারা ওষুধের কারণে এই মাঠের অনেকের পাট নষ্ট হয়েছে। এখানে পাখিতে ৬ থেকে ৭ মন করে পাঠ হতো। কিন্তু এবার কি হবে? প্রতিবছর খরচ-খরবা করার পর পাট বিক্রি করে আমরা কিছুটা লাভবান হতাম । কিন্তু এবার কোন আশাই নাই।
আরেক কৃষক ইউসুফ বিশ্বাস বলেন, ওষুধ তো বিভিন্ন ধরনের আছে, কিছু ওষুধ আছে বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না আর কিছু ওষুধ আছে বাতাসে যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত ক্ষতি হয়। এই ওষুধটা ঠিক একই ধরনের। আমরা ওষুধ নিচু করে দেই কিন্তু বাইরের লোক এসে বিষয়টা হয়তো না বুঝে উঁচু করে স্প্রে করায় বাতাসে যতদূর এই ওষুধ গেছে তত দূর পর্যন্ত পাট ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এখন যে অবস্থা তাতে এই পাট গুলো আর হওয়ার মতো অবস্থা নাই।
অভিযুক্ত চাঁন মিয়া বলেন, আমি তো নিজ মাঠে যাই নাই, শ্রমিক দিয়ে কাজ ওষুধ স্প্রে করানো হয়েছিল। ওরা কিভাবে কি করেছে আমি জানিনা। তবে এর কারণে আশেপাশে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু তারা অভিযোগ করছে সেটা ভিত্তিহীন। আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখব। কয়েকদিন আগে বিষয়টি সম্পর্কে জানলেও যেতে পারি নাই।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ বলেন, গত মঙ্গলবারে আমরা বিষয়টা জানতে পারি এবং পরবর্তীতে উপসহকারী মাঠ কর্মকর্তা ওই মাঠ পরিদর্শন করেছেন। চান্দু মিয়া নামে এক কৃষক ওখানে জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করত। ওই ছবিটা ফাঁকা থাকায় তিনি কিছু দিন আগে আগাছানাশক স্পে প্রয়োগ করে। ওই স্প্রে বাতাসে উড়ে আশপাশের বিভিন্ন পাট ক্ষেতে পড়ে এবং পাট গাছের পাতা কুঁকড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে মাকড়ের আক্রমণ কিন্তু আসলে সেখানে কোন মাকড়ের উপস্থিতি নাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই স্প্রে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবে পাট খেত গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সেখানকার ৩২ জন কৃষকের ৮.৮৩ জমির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চাইলে আমন প্রণোদনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ওষুধ প্রয়োগের সময় সাবধানতা সহ আশপাশের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত । তবে এ বিষয়ে কৃষকরা যদি কোন অভিযোগ করেন সেক্ষেত্রে কৃষি অধিদপ্তর তাদেরকে সহযোগিতা করবে।
মন্তব্য করুন