রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার না হওয়া এবং আংশিক উদ্ধারকৃত মালামাল ফেরত না পাওয়ায় ভূমি সেবা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতেকরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহিতারা।
এর আগে গত ৩১ মে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় ভূমি অফিসের দরজা-জানালা ভেঙে কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরা, ফ্যান, পানির মোটর, ব্যাটারী, লাইট, তারসহ ১১ ধরনের মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যায়। সেদিনই দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারন সম্পাদক আইয়ুব আলী খানের ভাঙারির দোকান থেকে সিসি ক্যামেরার সামগ্রী, ফ্যান, পানি তোলার মোটর, ব্যাটারী, লাইট, জানালার পাইপ ও তিন বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
এরপর ৩১ মে রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চোরাই মালামাল উদ্ধারের মামলায় ভূমি অফিসের সহকারী বেলাল মন্ডল একটি মামলা দায়ের করেন এবং বিদেশি মদ উদ্ধারের মামলায় বাদী হয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই শিহাব উদ্দিন। চুরির মামলাসহ দুই মামলায় আসামি করা হয় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী খান, তার ছোট ছেলে অনিক খান, বড় ছেলে আরিফ খান ও আইয়ুব আলী খানের শ্যালক আ. হালিমকে। উদ্ধার অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকেই আ. হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি তিন আসামি পলাতক থাকায় চুরি হওয়া কম্পিউটার ও পিসি উদ্ধার হয়নি। এবং উদ্ধারকৃত মালামাল এখনো থানায় থাকায় কার্যত বন্ধ রয়েছে এই ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম। তবে চুরির মালামাল উদ্ধার হওয়া ভাঙারী দোকান যথারীতি এখনো চালু রয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস খোলা থাকলেও প্রায় সব রকম সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানান ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সুমন গাঙ্গুলী। এসময় ভূমি অফিসের বাইরে সেবা গ্রহীতা নাসির সরদার ও তমিজউদদীনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, তাদের একটা জমি বিক্রি করার জন্য পরচা উঠাতে হবে, কিন্তু গত ৩/৪ দিন ভূমি অফিসে এসে এসে ঘুরে যাচ্ছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ভূমি অফিসের চুরি ঘটনার আসামীদের আটকের ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে খোয়া যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মালামাল উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া আংশিক উদ্ধারকৃত মালামাল ফেরত নেওয়ার জন্য রাজবাড়ী আদালতের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ার অনুসরন করে নিতে হবে বলে তিনি জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, চুরির ঘটনা ঘটার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া মহাসড়কের পাশে আইয়ুব আলী খানের ছেলে অনিক খানের ভাঙারী দোকান থেকে খোয়া যাওয়া এগারোটি মালামালের মধ্যে নয়টি মালামাল উদ্ধার করা হয়। খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় এখনো ভূমি অফিসের কার্যক্রম চালু করা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হলেও বাকী আসামির ব্যাপারে ওসি সাহেব বলতে পারবেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি ভূমি অফিসের সেবার কার্যক্রম চালু করতে। আদালতে আবেদন করা হয়েছে উদ্ধাকৃত আংশিক মালামাল পেলে স্বল্প পরিসরে হলেও কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।’
মন্তব্য করুন