রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর একটি শাখা (স্থানীয়ভাবে ‘মরা পদ্মা’ নামে পরিচিত) জুড়ে কচুরিপানার বিস্তৃত স্তূপে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকশ কৃষক। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় কৃষিজমি থেকে উৎপাদিত ধান, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল বাড়িতে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন ধরে এ ভোগান্তির শিকার হলেও এখনো সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মরা পদ্মা নদীজুড়ে কচুরিপানার বিস্তীর্ণ স্তূপ জমে নদীর অধিকাংশ অংশ ঢেকে গেছে। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় এবং কচুরিপানায় নৌপথও কার্যত অচল হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কয়েকশ কৃষক। কৃষিজমি থেকে উৎপাদিত ধান, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল বাড়িতে আনা-নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। কচুরিপানার ঘন স্তূপের কারণে নৌকা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় বিকল্প পথেও ফসল পরিবহনের সুযোগ নেই। ফলে উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে এবং বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মরা পদ্মা নদীর অধিকাংশ অংশ কচুরিপানায় ভরে গেছে। ফলে নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কচুরিপানার মধ্য দিয়েই কোন ভাবে ফসল আনছেন। এতে তাদের সময়, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের অধিকাংশ কৃষিজমি নদীর ওপারে। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় সব সময়ই কষ্ট করে ফসল আনতে হয়। এখন আবার পুরো নদী কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় নৌকা চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নৌকায় করেও ফসল আনতে পারছি না। এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, “প্রতিবছরই একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফসল ঘরে তুলতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। অনেক সময় কচুরিপানার কারণে নৌকা আটকে যায়, তখন ফসল বাড়িতে আনতে পারি না। কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়। পরে কচুরিপানা কিছুটা সরে গেলে বা নৌকা চলাচল স্বাভাবিক হলে তবেই ফসল বাড়িতে আনতে পারি।”
স্থানীয় বাসিন্দা কলম খান বলেন, “মরা পদ্মা নদীর অধিকাংশ অংশ কচুরিপানায় ভরে রয়েছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ এবং একটি সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকশ কৃষকের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”
একই দাবি জানিয়ে আরও কয়েকজন কৃষক বলেন, “বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কচুরিপানার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ এবং নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকশ কৃষকের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হব এবং নির্বিঘ্নে ফসল আনা-নেওয়া করতে পারব। বর্তমানে এই কচুরিপানার কারণেই আমরা সব সময় দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, উপজেলা পরিষদে আবেদন সাপেক্ষে কচুরিপানা অপসারণ করা হবে এবং একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে ওই স্থানের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন হলে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন