স্টাফ রিপোর্টার : কেনা সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার কল্যানপুরে মোছাঃ আসমা বেগম (৪০) নামে এক বিধবা নারী ও তার সন্তানের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তার দেবর ও ভাসুরের পরিবারের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার ৫ আগষ্ট এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ করেছেন আসমা বেগম। এদিকে রক্তাক্ত জখম অবস্খায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন ওই বিধবা নারী।
অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা হলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার কল্যানপুরের মৃত সেকেন্দার মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (৪০), তার ছেলে মোঃ রাব্বি (২০), মৃত সেকেন্দার মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া (৫০) ও তার ছেলে নয়ন (১৯)।
আহত মোছাঃ আসমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মতিন মিয়া প্রায় ১০ বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে কষ্ট করে সন্তানদের নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছি। প্রায় ৩ বছর আগে আমার দেবর জাকির হোসেনের কাছ থেকে বাড়ির পাশে দুই শতাংশ একত্রিশ লিংক জমি ৮০ হাজার টাকায় ক্রয় করি এবং ৩০০ টাকার নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে লিখিত করে নেই। এরপর বিভিন্ন সময় ক্রয়কৃত জমি বুঝাইয়া দিতে বললে আমার দেবর জাকির হোসেন জমি বুঝিয়ে না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। এরপর থেকে আমার দেবের জাকির, তার ছেলে রাব্বি, ভাসুর হারুন ও তার ছেলে নয়ন আমার পরিবারকে ক্ষতি করতে সুযোগ খুজে আসছিল। তারই জের ধরে ৪ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে আমার ছেলে মোঃ রিয়াদ মিয়া (১৯)কে কল্যাণপুর চাতাল মার্কেট সংলগ্ন নাইমের দোকানে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় ননদের ছেলে নিয়ামুল । সে সময় জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমার ছেলে বাড়িতে চলে আসে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার বাড়ীতে আমার দেবর, ভাসুরসহ তার ছেলেরা কাঠের বাটাম ও বাশেঁর লাঠিসোটা নিয়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। সে সময় গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় আমার ছেলেকে তারা এলোপাথারীভাবে মারধোর করতে থাকে। এ সময় আমি ছেলেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে আমাকে তারা খুন করার উদ্দেশ্যে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তখন আমাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেই এবং পরিবারের লোকজন সহ অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করি। তিনি আরও বলেন, আর আগেও তারা আমার ও আমার ছেলেকে মারধোর করেছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি মাহমুদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মন্তব্য করুন