মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ উঠছে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ফার্মেসীর বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস আগে শেষ হয়ে যাওয়া মেয়াদী Esoral 40 (এসোরাল ৪০) ওষুধ দেওয়া হয়েছে রোগীদের হাতে।
এ বিষয়ে জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল রাজবাড়ীবিডি.কম এ সংবাদ প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট ডাঃ রাজীব দে সরকারকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে শেষ হয়ে যাওয়া মেয়াদী Esoral 40 (ইসোরাল ৪০) ওষুধ আজও দেওয়া হয়েছিলো রোগীদের হাতে। মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের বিষয়টি ভুক্তভোগীরা মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে জানান। মিডিয়ায় এই পোস্টটি চোখে পরে সার্জারী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী এবং হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ রাজীব দে সরকার এর। তিনি বিষয়টি দ্রুতই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান এর কক্ষে এসে তাকে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন। এই বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসন সেদিনই কয়েকদফা মিটিং করে এবং ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করেন। হাবিবুর রহমান, জিসান, হামিদুর রহমান সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতাল প্রশাসন এবং মিডিয়ার কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি সংবেদনশীল এবং প্রচণ্ড স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরী করতে পারে বলে হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেসদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, অত্র হাসপাতলের সার্জারী বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট ডাঃ রাজীব দে সরকার – কে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, ডাঃ গৌতম কুমার সরকার (জুনিয়র কনসালটেন্ট, চর্মরোগ), ডাঃ তাপদ চন্দ্র মন্ডল (জুনিয়র কনসালটেন্ট, ইএনটি), ডাঃ কামরুজ্জামান ((জুনিয়র কনসালটেন্ট, সার্জারি) এবং ডাঃ মোঃ বেলায়েত হোসেন (আরএমও)।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ হান্নান বলেন, “প্রতিদিন আউটডোরে নতুন প্রায় ১৩০০ ও পুরানো প্রায় ১৬০০ রোগী সেবা নিচ্ছেন। ফলে আউটডোর ও ইনডোরে অনেক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ে কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের কোন সুযোগ নাই। ওষুধের মেয়াদ শেষের কাছকাছি আসলে আমরা সকলকে সকর্ত করি এবং দ্রুত ওষুধ শেষ করতে বলি। আর আমাদের ওষুধও বেশি নাই।”
তদন্ত কমিটির প্রধান ডাঃ রাজীব দে সরকার আমাদেরকে জানান, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে কোথাও ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। নাহলে এমন হবার কথা না। তদন্ত কমিটি গঠিত হবার আগেই সেদিনই আমি স্টোর কিপার, ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড মাস্টার এর সাথে কথা বলেছি। কোন লেভেল থেকে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজটি হলো আমরা খুঁজে বের করবো। রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন সেন্সিটিভ কাজের ব্যাপারে সবারই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তাই শুধু ডাক্তার না, হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক আচরণ প্রয়োজন।”
সরকারী পর্যায়ে রাজবাড়ী জেলার সর্ববৃহৎ হাসপাতাল রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল। জেলার ৫ উপজেলার প্রায় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার স্থান এই হাসপাতালটি। এখানে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট দীর্ঘ দিনের। সম্প্রতি হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা থেকে আড়াইশো শয্যার মঞ্জুরী প্রদান করা হয়েছে। তবে ১০০ শয্যার হাসপাতালেই চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
মন্তব্য করুন