রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর মজলিস পুর এলাকায় রাতের আঁধারে ট্রাক্টর দিয়ে কৃষকের ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুট্টা চাষী তিনজন দরিদ্র কৃষক ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) থানার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুমিনুল ইসলাম।
ঘটনার বিবরনে জানাযায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিসপুর এলাকায় ভুট্টা খেতে ট্রাক্টর দিয়ে ফসলের সম্পূর্ণ ক্ষতি করে দূবৃত্তরা। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ স্থানীয় ফরিদপুর সদর থানার মাইজা মিয়ার ডাঙ্গি এলাকার আক্কাস ও মোজাহারের দিকে। কিছুদিন আগেই তারা হুমকি ধামকি দিয়ে গেছে এখানে ফসল ফলাতে না দেওয়ার।
ভুক্তভোগী ভুট্টা চাষী আব্দুল হাই, মামুন ও আইয়ুব আলী জানান, গত ১৮ থেকে ২০ বছর যাবত আমরা কুবাদ শেখের কাছ থেকে এই জমি ১০ লক্ষ টাকায় বন্ধক রেখে চাষাবাদ করছি। কিছুদিন আগে জমি থেকে মিষ্টিকুমরা তুলে ভূট্টার চাষ করেছি। আর কয়েকদিন পরেই ভুট্টার ফলন হবে। গত দুই-তিন দিন আগে দিনের বেলা হামিদ মৃধার হাট এলাকার নায়েব আলী ফকিরের নির্দেশে ফরিদপুর সদর থানার মাইজা মিয়ার ডাঙ্গি এলাকার আক্কাস ও মোজাহার এসে খানিক জায়গার ভুট্টা গাছ নষ্ট করেছে। তারাই আবার রাতের আঁধারে বড় ট্রাক্টর দিয়ে আমাদের বিশ বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেতে চাষ দিয়ে ভুট্টা গাছ নষ্ট করে ফেলেছে। এতে আমাদের কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ওই এলাকার আরেক চাষী আলমগীর বলেন, এই জমির পাশেই আমার জমি। আমরা গত বিশ বছর ধরে দেখে আসছি এই জমিতে তারা চাষ করে আসছে। নায়েব আলী ফকির (আর এস) একটা কাগজ নিয়ে এসে দাবি করে এই জমি তার।
স্থানীয় মোয়াজ্জেম শেখ বলেন, আমরা অনেকদিন যাবত ধরে দেখছি হাই মোল্লা আইয়ুবরা ওই জমি চাষাবাদ করে আসছে। উনাদের ভুট্টা গাছগুলো অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। সেই ভুট্টা ক্ষেতে কে বা কারা চাষ দিয়েছে তা আমরা জানিনা।
জাহিদ হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা এই ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে চাষ দিয়েছে তা আমরা জানিনা। তবে তাদের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছে। এটা করা ঠিক হয়নি।
জমির মূল মালিক উপজেলার উজানচর ইউপির নাসের মাতুব্বরপাড়া এলাকার কুবাদ শেখ বলেন, আমরা নিজেরাই অনেক বছর জমিটা আবাদ করেছি। পরে জমিটা বর্গা দিয়েছি। তারা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছে। গত দুই তিন দিন আগে দিনের বেলায় নায়েব আলী ফকির, সালাম বেপারী, আক্কাস, মোজাহার আমার জমিতে ভুট্টা গাছের মধ্য দিয়েই জোরপূর্বক চাষ দিতে গেলে আমরা তখন বাধা দেই। পরবর্তীতে তারাই রাতের আঁধারে বড় পাওয়ার টিলার দিয়ে জমিতে চাষ দিয়ে ভুট্টা গাছ ভেঙে নষ্ট করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত নায়েব আলী ফকির জানান, ওই জমিটা নিয়ে একটা মামলা আছে আমার দেওয়ানী। ওরা যেটা বলছে তা ভিত্তিহীন। ওরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনা আমি জানিও না আমি দেখিও নাই। অন্যান্য অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই একজন অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন