মারামারির জেরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়ার ২৪ ঘন্টা পার হলেও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান মেলেনি। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করছে।
নিখোঁজ ওই যুবকের নাম মো. রজাউল শিকদার (৩৮)। সে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়া হয় এবং সাঁতরে তীরে উঠতেও বাধা প্রদান করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সানিয়া খাতুন (১৮) বলেন, ‘ আমি ওই সময় নদীতে গোসল করছিলাম। দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরি ঘাটে একটি ফেরি এসে ভিড়লে ওই ফেরি থেকে নেমে পন্টুনে দুই ব্যাক্তি মারামারি শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই জনই নদীতে পড়ে যায়। এ সময় এক ব্যাক্তি কয়েক জনের সহযোগিতায় উপরে উঠে আসে এবং অপর ব্যাক্তি উপরে উঠতে গেলে তাকে পাশে থাকা ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে সে আর উপরে উঠতে পারেনি। কিছুক্ষণ ভেসে থাকার পর সে ডুবে যায়।’
নিখোঁজ যুবকের বড় ভাই মো. রবিউল শিকদার বলেন, ‘আমাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ভাবে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তারাই পরিকল্পিত ভাবে ফেরিতে গন্ডগোল বাঁধিয়ে পন্টুন থেকে আমার ভাইকে নদীতে ফেলে দেয়। আমার ভাই বাঁচার জন্য নদীতে থেকে তীরে উঠার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা তাকে তীরে উঠতে বাঁধা দেয় এবং পাশে থাকা ইটের টুকরো দিয়ে ঢিল ছুঁরে তাকে আঘাত করে। এটা কোন দূর্ঘটনা নয়। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আরিচা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (নৌ ও স্থল) লিডার মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। টানা সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত তল্লশি করেও নিখোঁজ ব্যাক্তির সন্ধান পাইনি। তীব্র শীত ও অন্তত ৪০ ফুট পানির গভীরতা থাকায় উদ্ধার কাজ সাময়িক বন্ধ করা হয়। এরপর বুধবার সকল ১০টা থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি, এখনো নিখোঁজের কোন সন্ধান মেলেনি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে এসে দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরি ঘাটে ভেড়ার পর নিখোঁজ ব্যাক্তি ও আরো কয়েকজন ধস্তাধস্তি করতে করতে পন্টুনে নামে বলে লোকমুখে জানতে পেরেছি। একপর্যায়ে দুই ব্যাক্তি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যাক্তিকে উদ্ধারে ঘাটটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে এবং পন্টুন সরিয়ে দিয়ে উদ্ধার কাছে সহযোগিতার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রীনাথ সাহা জানান, নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের সঙ্গে অপর এক ব্যাক্তির মারামারির এক পর্যায়ে দু’জন নদীতে পড়ে যায়। একজন তীরে উঠে আসে, অপরজন নদীতে নিখোঁজ হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্তও নিখোঁজ ব্যাক্তি সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই মামলা রয়েছে। ছিনতাই সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মারামারি হয়েছে, নাকি অন্য কোন বিষয়ে এ ঘটনা ঘটেছে, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে জানা যাবে।
মন্তব্য করুন