রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের হাটবনগ্রাম মহাশ্মশানে অবাস্থিত কালীমন্দিরের কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার দিনগত গভীর রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে বিষয়টি জানাজানি হয়। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরিষা ইউনিয়নে হাটবনগ্রামে চত্রা নদীর পারে শ্মশানটি অবস্থিত। এই শ্মশানে ১২টি গ্রামের মানুষের সৎকাজ করা হয় বলে ১২ পল্লী মহাশ্মাশান বলে। চারদিকে দেয়াল ঘেরা বারো পল্লী মহাশ্মশানে পাশাপাশি রয়েছে কালী মন্দির, শিব মন্দির ও গোবিন্দ মন্দির। প্রতিটি মন্দিরে লোহার গ্রিল দেওয়া আছে। প্রতি বছর পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহে শ্মশানে তিন দিন ব্যাপী নাম কির্তন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতি শনি ও মঙ্গলবার স্থানীয় হিন্দু সম্পদায়ের মানুষ কালী ও শিব মন্দিরে পূজার্চনা করতে যান। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মমতা বর্মন নামে এক নারী কালী মন্দিরে পূজার্চনা করতে গিয়ে দেখতে পান কালী মন্দিরের কালী প্রতিমা, শিব প্রতিমা, শিবের গলায় পেঁচানো সাপ, ডাকিনি, যুগিনি প্রতিমার মুখমন্ডল ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে জানান। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার, পাংশা থানার ওসি মঈনুল ইসলামসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বারো পল্লী মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার সরকার জানান, তাদের মন্দিরে প্রতি বছর পৌষ মাসের প্রথম শনি অথবা মঙ্গলবারে বাৎসরিক কালীপূজা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বৃহৎ পরিসরে নামযজ্ঞ। ধর্মীয় কার্যক্রম করতে গিয়ে কখনও বাধার সম্মুখীন হননি। মঙ্গলবার দুর্বৃত্তরা কালী মন্দিরের প্রতিমাগুলোর মুখাবয়ব বিকৃত করে দিয়েছে। ধারণা করছেন রড অথবা কোনো ধাতব বস্তু দিয়ে গ্রিলের বাইরে থেকে খুচিয়ে এই কাজ করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিমাগুলো এখনও ভগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এভাবে তো আর পূজা করা যাবেনা। এখন নতুন করে আবার প্রতিমা গড়তে হবে। পাশের গোবিন্দ ও শিব মন্দিরের প্রতিমাগুলো অক্ষত আছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে তিনি পাংশা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
পাংশা থানার ওসি মো. মঈনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন