রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বড় কলকলিয়া গ্রামে ব্যক্তিগত জমিতে ফসল কাটতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রশিদ মোল্লা। তার দাবি প্রতিবেশী সোলাইমান মোল্লা, পান্নু মোল্লা ও রাসেল মোল্লা তার নিজস্ব ৬০ শতাংশ জমিতে ফসল কাটতে বাধা দিয়েছেন।দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলা এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, তিনি ১৯৯৬ সালে বড় কলকলিয়া মৌজার ৯৯৫ নম্বর দাগের খতিয়ান ভুক্ত ১৫৯৫ এর ৪০ শতাংশ এবং ৯১১/১ এর ২০ শতাংশসহ মোট ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকেই প্রতিপক্ষ তাকে ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করে তিনি তিনটি ডিক্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষও একটি মামলা করে একতরফা রায় পায়, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। তিনি আরও জানান, গত ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। কিন্তু ফসল তোলার সময় প্রতিপক্ষরা বাধা দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে আবার চাষাবাদ শুরু করলে পুনরায় কাজে বাধা দেন তারা।
অভিযুক্ত সোলাইমান মোল্লা দাবি করেন, জমিটি তারা ১৯৬৪ সালে সরকারি নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন এবং তাদের নামে বায়নামা, দখলনামা ও মিউটেশন রয়েছে। এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা করে গত ২৪ সালের ১১ অক্টোবর তারা রায় পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৪ সালের ৬ আগস্ট প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জমি দখল করে নেয়। তারা ফসল তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে প্রতিপক্ষ মোঃ আব্দুর রশিদ মোল্লা সালিসে উপস্থিত হয়নি বলে তিনিও অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে মৃগী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসার আহ্বান জানানো হলেও সোলাইমান মোল্লারা উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন