রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে অভিযান চালিয়ে আসলাম নামের এক ভুয়া পশু চিকিৎসককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং রোথী নামের এক পল্লী চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং অনিবন্ধিত চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধের লক্ষ্যে দৌলতদিয়া ইউনিয়নে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রতিনিধি আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে আসলামকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৮(১) ধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই অভিযানে রোথীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে চাঁদনী নামের এক প্রসূতির প্রসব করানোর ঘটনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে পশু চিকিৎসক আসলাম ও পল্লী চিকিৎসক রোথীর বিরুদ্ধে। প্রসূতি চাঁদনী উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদত মেম্বারপাড়ার চাঁন মিয়ার মেয়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাভাবিক প্রসব করানোর কথা বলে পশু চিকিৎসক আসলাম ওই প্রসূতিকে ইনজেকশন দেন। পরে প্রসব করানোর সময় এক নারীকে দিয়ে কাটাছেঁড়া করে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক রোথীকে ডেকে আনা হয়। তিনি প্রসূতির ক্ষতস্থানে গজ রেখে সেলাই করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চাঁদনীকে ফরিদপুরে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে তাঁর শরীরের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন