রাজবাড়ীর পাংশায় চাঁদা না দেওয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিককে মারধরের অভিযোগে মো. রেজাউল করিম ওরফে রাজা খান (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পাংশা মডেল থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় আরও একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পাংশা মডেল থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার মাগুরাডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম ওরফে রাজা খান (৫৫) ও হালিম শেখ (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় অবস্থিত লিজা হেলথ কেয়ারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তারা ক্লিনিক পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা এবং ক্লিনিকের শেয়ার দেওয়ার দাবি করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চাঁদা ও শেয়ার দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বিভিন্ন সময়ে ক্লিনিকের কর্মচারীদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে চাঁদার নামে রাজা খান ক্লিনিক থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে আবারও চাঁদা দাবি করা হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পাংশা উপজেলার মাগুরাডাঙ্গী এলাকায় সাবেক কমিশনার খালেদ ফজলুল্লাহর বাড়ির সামনের সড়কে ক্লিনিক মালিকপক্ষের প্রতিনিধি খোন্দকার মাহবুব হোসেন রিপনকে পেয়ে আসামিরা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে ইট দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ ঘটনায় খোন্দকার মাহবুব হোসেন রিপন (৫৮) বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. রেজাউল করিম ওরফে রাজা খান, হালিম শেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাংশা থানার মামলা নম্বর-৮, তারিখ ৯ জুন ২০২৬। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, “মামলার প্রধান আসামি মো. রেজাউল করিম ওরফে রাজা খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মন্তব্য করুন