রাজবাড়ীতে তেলবাহি ট্রেন ও যানবাহন দূর্ঘটনায় পাকশি ডিভিশনাল মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) ডাঃ মোঃ শাকিল আহমেদকে প্রধান করে এই ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দূর্ঘটনা কবলিত স্থান রাজবাড়ীর খানখানাপুর লেভেল ক্রসিং পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটি। এ সময় লেভেল ক্রসিংয়ের দ্বায়িত্বে থাকা গেটম্যান সহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন তদন্ত টিম। এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তেলবাহি ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগন (বিটিও)র সাথে যাত্রীবাহি বাস, মাহেন্দ্রা ও অটোরিক্সার চতুরমূখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।
জানাগেছে, রবিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর খানখানাপুর লেভেল ক্রসিংয়ে রাজবাড়ী অভিমূখে একটি তেলবাহি ট্রেন প্রথমে ইঞ্জিনসহ বেশকয়েকটি বগি নিয়ে রেললাইন ক্রস করে। পরে দ্বায়িত্ব গেটম্যান রেললাইনের ব্যারিয়ার উঠিয়ে দিলে কিছু সময় পর মুলট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বেশ কয়েকটি বগি এসে মহাসড়কে চলাচলরত মাহেন্দ্রা, অটোরিক্স ও একটি যাত্রীবাহি বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাহেন্দ্রাকে প্রায় ১০০ গজ দুর ঠেলে নিয়ে যায় মালবাহি ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগিগুলো এবং দুমরে মুচরে যায় অটোরিক্সাটি। এছাড়া বাসটিকেউ ঠেলে নিয়ে যায় রেললাইনে। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সহ ৮ জনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথিমধ্যে খানাখানাপুরের মনোয়ার পাটোয়ারী ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বালিয়াকান্দি শামোকখোলার আব্দুল মালেক মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন, রাজবাড়ী দৌলতদিয়ার লিয়াকত, আশিক, গোয়ালন্দ মোড়ের নুরু শেখ, কল্যানপুরের নুরুল ইসলাম, কালুখালীর বিল্লাল ও খানখানাপুরের বলাই। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর পাকশি ডিভিশনাল মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) ডাঃ মোঃ শাকিল আহমেদকে প্রধান করে এই ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, পাকশি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও), বিভাগীয় প্রকৌশলী এক (ডিইএনওয়ান), বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই ক্যারেজ) ও বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই লোকো)।
পাকশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এ্যাসিসটেন্ট কমান্ডেন্ট মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান সহ আমরা দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবার সাথে কথা বলছি। সেই সাথে এ ঘটনায় আহত খোজখবর নেওয়া সহ নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলবো। সাধারনত এ ধরনের ঘটনা খুবই কম ঘটে। হয়তো চলন্ত অবস্থায় হুক কোন ভাবে খুলে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে, দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
মন্তব্য করুন