রাজবাড়ী সদর উপজেলার পূর্ব ভবদিয়া এলাকায় ‘সুমন ভিলা’ নামের একটি বসতবাড়িতে দিনের আলোয় গ্রিল কেটে এক বছরের ব্যবধানে দুইবার দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পর পর এই চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সর্বশেষ গত সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে বাড়িটিতে দ্বিতীয় দফায় চুরি হয়।
জানাগেছে, চাকরির সুবাধে সুমন সরদার ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে থাকে তার স্ত্রীসহ দুইটি শিশু সন্তান । ২৯ জুন ঘটনার দিন সুমন সরদারের স্ত্রী লামিয়া সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যান। এই সুযোগে চোরচক্র বারান্দার গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করে মাটির ব্যাংকে রাখা নগদ ১২ হাজার টাকা এবং প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিদেশি হাতঘড়ি চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে, গত বছরের (১৭ জুলাই) একই কায়দায় বাড়ির পেছনের জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছিল, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এদিকে পর পর দুই চুরির ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বাড়ির মালিক সুমন সরদার। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না পাওয়ায় দুটি ছোট সন্তান নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন সুমন-লামিয়া দম্পতি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ওই বসতবাড়ীতে সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়। সীমানা প্রাচীরের মধ্যে একতলা একটি ভবন। চোরচক্রের সম্প্রতি ও পূর্বে গ্রিল কাটার চিহৃ এখনও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় বাড়ীর প্রতিটি রুমের আসবারপত্র, আলমারি, শোকেজ, ওয়ারড্রপ, ড্রেসিন্টেবিল সহ জিনিসপত্র এলোমেলা করা সহ কাপড়-চোপড় মেঝেতে ছড়ানো ছেটানো রয়েছে। এবং পরিবারের ছোট্ট দুইটি শিশুসহ সুমন-লামিয়া দম্পতির চোখে মুখে রয়েছে আতঙ্গের ছাপ।
বাড়ীর মালিক সুমন সরদার বলেন, চাকরির সুবাধে ঢাকায় থাকি। বাড়ীতে স্ত্রী ছোট্ট দুইটি শিশু বাচ্চা নিয়ে থাকে। বাচ্চা দুইটা খুবই মেধাবি এবং দুজনই প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে। একবছরের মধ্যে দিনের বেলায় পর পর দুইটি চুরির ঘটনায় আমরা চরম ভয়ে আছি। রাতে ভয়ে কেউ রুমে থাকি না। দরজা জানালা বন্ধ করে লাইট জ্বালিয়ে সবাই মিলে ড্রয়িং রুমে ফ্লোরে এক সাথে থাকি। ভয়ে মেয়েটার জ্বর চলে আসছে। প্রথমবার চুরির ঘটনায় ১২ ভরি স্বর্ণ এবং দ্বিতীয়বার নগদ ১২ হাজার টাকা সহ একটি বিদেশী ঘরি নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ করেছি। আমি চাই পরিবারের নিরাপত্তা সহ চোরচক্রকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি আরও বলেন, খুব ভয়ে আছি। এখানে বৌ-বাচ্চা থাকে, আর আমি থাকি ঢাকায়। দিনের বেলায় এরকম ঘটনা ঘটছে। আমি ঢাকায় চলে গেলে ওদের তো মেরে ফেলে রেখে যেতে পারে । তখন দ্বায়ভার কে নেবে? প্রশাসন চাইলে দ্রুত এটার সমাধান করতে পারে। আমি আশা করি প্রশাসন আমার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্তসহ আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন