রাজবাড়ীতে ইমাম সাহেবের হেলিকপ্টারে রাজকীয় বিয়ে! - Rajbari
রাজবাড়ী বিডি ডেস্ক
২১ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীতে ইমাম সাহেবের হেলিকপ্টারে রাজকীয় বিয়ে!

স্টাফ রিপোর্টার :  রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী মাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. রুহুল আমিন হেলিকপ্টারে রাজকীয় ভাবে বিয়ে করে কণে নিয়ে ফিরেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

গত রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামে এমন রাজকীয় বিয়ের আয়োজন হয়। বর স্থানীয় আবুল হোসেন ক্লাব মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যান ও একই মাঠে তিনি হেলিকপ্টারে করে বউ নিয়ে নামেন। ভবদিয়ার আবুল হোসেন ক্লাব মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করলে আশ-পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধা ভিড় জমায়। বিকেলে বর-কনে নব দম্পতি আবার ফিরে আসার সংবাদ শুনে আবারও উৎসুক জনতার ঢল নামে। এমন রাজকীয় বিয়ে দেখতে মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ ছিল না। বর হাফেজ মো. রুহুল আমিন সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের মোশারফ হোসেন হেলালীর ছেলে। তিনি দাদশী মাজার জামে মসজিদের ইমামতি করেন এবং তাদের নিজস্ব একটি মাদরাসা রয়েছে।

স্থানীয় ও বরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল হেলিকপ্টারে চড়ে সে বিয়ে করতে যাবে। এজন্য সে ইমামতি করে স্বল্প আয়ের মধ্যেও টাকা জমিয়েছিল। তার জমানো টাকা ও বাবার কিছু জমানো টাকা দিয়ে সে হেলিকপ্টারে ঝিনাইদহ জেলায় বিয়ে করতে যায়।

বর হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, আমি ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে হাফেজি পড়া শেষ করি। যখন হাফেজি পড়া শেষ করি তখন আমার বাবা আমাকে বলেছিল যে, তুমি কি চাও? তখন আমি বলেছিলাম হেলিকপ্টারে চড়ে আমার বিয়ে করতে যাওয়ার ইচ্ছা। তখন আমার বাবা বলেছিল তোমার যে আবদার, আল্লাহ তোমার মনের আশা পূরণ করবে। আমার বাবা সবসময় এ ব্যাপারে সচেষ্ট ছিল। আমার স্ত্রী সেও একজন হাফেজ।

রুহুল আমিনের বাবা মোশাররফ হোসেন হেলালী বলেন, আমার ছেলে ১০ বছর বয়সে হাফেজ হয়। তখন তাকে বলেছিলাম বাবা তুমি আমার কাছে কী চাও। আমি তখন মনে মনে ভেবেছিলাম বাইসাইকেলের থেকে আর বেশি কিছু কী চাবে সে। তখন সে তার দাদা ও দাদিকে সাথে করে নিয়ে এসে আমার কাছে বলে আমি বিয়ের উপযুক্ত হলে আমাকে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাব। তখন আমি তাকে আশ্বাস দেই। আমার ছেলে বিয়ের উপযুক্ত হলে তখন আমি মেয়ে দেখতে শুরু করি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটা মেয়ে পছন্দ হয়। পরে আমার ছেলেকে জানাই। তখন সে বলে বাবা আমি কিন্তু হেলিকপ্টার ছাড়া বিয়ে করতে যাবো না। তুমি আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলে। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে ইমামতি করে ৮ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকে। বেতনের টাকা থেকে সে প্রতিমাসে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতো। আমার ছেলের জমানো টাকা ও আমি কিছু টাকা দিয়ে তাকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে পাঠিয়েছে। আমার ছেলের মনের আশা পূরণ করতে পেরে আমি অনেক খুশি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বালিয়াকান্দিতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, অভিযুক্ত গ্রেফতার

বালিয়াকান্দিতে রং মিশিয়ে লাল তিল কে কালো করার দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা 

কালুখালীতে জামায়াত কর্মী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার-৩

গোয়ালন্দে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানে সমর্থন

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে আহলাদীপুর হাইওয়ে পুলিশের ব্রিফিং

চিকিৎসা নিতে নিজেই ক্লিনিকে হাজির অসুস্থ হুনুমান 

কালুখালীতে জামায়াত কর্মীর হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার

রাজবাড়ীতে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

পাংশায় স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

গোয়ালন্দে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

১০

রাজবাড়ীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল

১১

গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেপ্তার

১২

পাংশায় মাইক্রোবাস ও ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু, আহত ৫

১৩

পাংশায় চাঁদা না দেওয়ায় ক্লিনিক মালিককে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

১৪

রাজবাড়ীতে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

১৫

গোয়ালন্দে সড়কে যানবাহন চাপায় ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

১৬

কালুখালীতে ডিবির অভিযানে ট্যাপেন্টাডলসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

১৭

পাংশায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

১৮

 ‘বাবা ছিলেন আমার সন্তানের মত’ গোয়ালন্দে শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূদের সম্মাননা

১৯

গোয়ালন্দে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ভূমি অফিসের সেবা ব্যাহত

২০