রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামে জমি ও টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামাতা ও মেয়ে।
শনিবার ( ৭ মার্চ) বিকাল খোলাবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জামাতা মজিবর ব্যাপারী ও তার স্ত্রী হালেমা বেগম এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
জামাতা মজিবর ব্যাপারী বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি মুসাব্বর খানের মেয়ে হালেমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার শ্বশুর দুই দফায় প্রায় ৯৫ শতাংশ জমি তাদের নামে দান স্বত্বে লিখে দেন। এরপর জীবিকার তাগিদে তিনি বিদেশে চলে যান। সেখানে প্রায় ১৭ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ তার শাশুড়ির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। তিনি দাবি করেন, এই ১৭ বছরে তিনি প্রায় ৯৫ লাখ টাকা শাশুড়ির অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি টাকার হিসাব চাইলে শাশুড়ি কোনো হিসাব দেননি এবং টাকা ফেরতও দেননি। বরং প্রায় ৩০ বছর আগে দান করা জমি ফেরত দিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মজিবর ব্যাপারী আরও বলেন, “বিভিন্ন লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি এখন পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধান করার জন্য।”
সংবাদ সম্মেলনে মেয়ে হালেমা বেগম বলেন, “বিয়ের পর বাবা আমাদের নামে জমি লিখে দেন। পরে আমার স্বামী বিদেশে গিয়ে উপার্জিত অর্থ নিয়মিত আমার মায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়ে আমাদের পরিবারের খরচ চললেও অধিকাংশ টাকার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন টাকা চাইলে তার বাবা-মা অস্বীকার করছেন। উল্টো তাদের নামে দেওয়া জমি ফেরত নিতে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের মামা ও এলাকার কিছু মানুষের কুপরামর্শে আমাদের নাজেহাল করা হচ্ছে। আমরা চাই আমার স্বামীর পাঠানো টাকা ফেরত দেওয়া হোক এবং আমাদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা হয়রানি না করা হোক।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্বশুর মুসাব্বর খান বলেন, “আমি আমার মেয়ের কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। তারা আমাদের দেখাশোনা করে না। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি শুধু আমার জমি ফেরত চাই। মামলায় যা হওয়ার তাই হবে।”তিনি আরও বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ চান না, তবে নিজের অধিকার রক্ষার জন্য আইনি পথে এগোচ্ছেন।
মন্তব্য করুন