স্টাফ রিপোর্টার : তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক না থাকায় জরুরী নানান সেবা কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে তৃণমূলের জনগণ বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, মেয়াদকাল শেষ হওয়ায় দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ পদ হারান। এরপর ইউনিয়নবাসির সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গত বছর ৪ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. খেকন উজ জামানকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন এবং উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. রুহুল আমীনকে প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। এছাড়া ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে একই সময়ের জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক সদস্য নিয়োগ করা হয়। এরপর থেকে কিছুটা জটিলতা থাকলেও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কিন্তু গত ৩০ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্প্রতি বদলি হয়ে যায়। এরপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। অপরদিকে পদায়নের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় দেবগ্রাম ইউনিয়নের প্রশাসকের মেয়াদও আর বৃদ্ধি করা হয়নি। এতেকরে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে এবং ভাতা বিতরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে। যারা ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, বানিজ্যিক সনদ (ট্রেড লাইসেন্স) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন, তারা ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার (২০ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের জটলা দেখা যায়। বানিজ্যিক সনদ, জন্ম সনদ, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে এসেছেন তারা। কিন্তু কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা না থাকায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে এসব সেবা গ্রহিতাদের। এসময় দুইজন গ্রাম পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সচল রাখতে দেখা যায়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার খোঁজ করলে তারা বলেন, ‘তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষনে গেছেন।’ এরপর উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। এই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাও প্রশিক্ষনে আছেন।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, গত ২০ দিনে ১৬০ জন নাগরিক সনদের জন্য, বানিজ্যিক সনদের জন্য ১০ জন, ওয়ারিশ সনদের জন্য ১৭জন, জন্ম ও মৃত্যু সনদের জন্য ১শ জন ইউনিয়নবাসী আবেদন করেছেন। এরপর থেকে অনেকেই বিভিন্ন আবেদন করতে আসলেও প্রশাসক নাই, তাই আবেদনও নেয়া হচ্ছে না।
উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মো. মাইনদ্দিন পাল বলেন, ‘আমার জমি নামজারি ও জমা ভাগ (খারিজ) করার জন্য দ্বৈত প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন। দ্বৈত প্রত্যয়ন পত্রের জন্য দিনের পর দিন ঘুরছি। চেয়ারম্যান বা প্রশাসক না থাকায় আমরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। এ কাজে গত কয়েকদিন ধরে ঘুরেও কোন সমাধান করতে পারছি না।’
ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মোছা. শিরিন আক্তার জানান, আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধন করার জন্য দিনের পর দিন ঘুরছি। চেয়ারম্যান বা প্রশাসক না থাকায় সম্পন্ন করতে পারছি না। এসময় মো. সজীব হোসেন জানান, আমার মায়ের মৃত্যু সনদের জন্য ৬দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসছি। এখন পর্যন্ত মৃত্যু সনদ পায়নি। কবে পাবো তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংক গোয়ালন্দ শাখার রিলেশনশিপ কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বানিজ্যিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদ সরবরাহ না থাকায় তাদের অসংখ্য গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন।’
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ ফোনে জানান, পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক না থাকলে একটু জটিলতা হবেই। তবে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মত তাদের খুব বেশী জটিলতা হচ্ছে না। কারণ মেয়াদ শেষ হলেও পূর্বে নিয়োগকৃত প্রশাসক জরুরী কাজগুলো সম্পন্ন করছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুর রহমান জানান, গত ৪ জুলাই নিয়োগকৃত প্রশাসকদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। বদলিজনীত কারণে এর কয়েকদিন আগেই দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক চলে গেছেন। ইতিমধ্যে নতুন প্রশাসক নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য করুন