স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, নদীতে তীব্রস্রোত ও ঘাট সংকটে দেশের ব্যাস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতেকরে দৌলতদিয়া নদী পারের অপেক্ষায় আটকে পাড়া যানহাননে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ৭টি ঘাটের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মূলত ৭নং ঘাট আংশিক ভাবে সচল রয়েছে। ৭নং ঘাটের পন্টুনের ৩টি পকেটের একটি পকেট দিয়ে যানবাহন উঠা-নামা করছে। অন্যান্য সকল ঘাট কার্যত বন্ধ। পানি বৃদ্ধির ফলে ৩ ও ৪ নং ফেরি ঘাটের পন্টুন হাই ওয়াটার লেভেলে স্থাপনের কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। দৌলতদিয়া ঘাটের অন্যান্য ফেরি ঘাটগুলো আগের থেকে নানা কারণে বন্ধ রয়েছে।
ফেরি চলাচল ও যানবাহন উঠা-নামা ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে অসংখ্য যানবাহন। এসময় আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা চরম দূর্ভোগে পড়েন। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি নেই বললেই চলে। তবে বৃহস্পতিবার যেন পূর্বের সেই চিত্র মনে করিয়ে দিল। এসময় আটকে পড়া ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের যাত্রী মো. আশিকুর রহমান জানান, একসময় দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি সহ্য করেই আমারা যাতায়াত করতাম। তখন আমাদের মানুষিক একটা প্রস্তুতিও থাকত। কিন্তু এখন ভোগান্তিটা নিতে পারছি না। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘসময় সিরিয়ালে আটকে রয়েছি। এ মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাবে এবং নদীতে তীব্র ¯্রােত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই যথাযথ সিদ্ধন্ত গ্রহন করলে আমাদের এই ভোগান্তি হতো না।
রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রাবেয়া পরিবহনের যাত্রী সৌরভ হাসান বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যানবাহনের সংখ্য কমে যাওয়া কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঢিলাঢালা ভাব তৈরী হয়েছে। যে কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জেআর পরিবহনের যাত্রী মো. আলমগীর হোসেন জানান, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ায় আসতে ফেরির অনেক সময় লেগেছে। তারপর আবর দৌলতদিয়ায় এসে অন্তত ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে ঘাটের দেখা পেয়েছে তাদে ফেরিটি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা অঞ্চলের মেরিন প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পনি বৃদ্ধির ফলে দৌলতদিয়া ৪নং ফেরিঘাটের পন্টুন হাই ওয়াটার লেভেলে স্থাপনের কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুমে এটা একটি স্বাভাবিক কাজ। এমসয় তিনি দাবি করেন এ ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ না, কিছুক্ষণ পরপর পরীক্ষামূলক ভাবে এ ঘাটে ফেরি ভেড়ানো হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মো. সালাউদ্দিন জানান, তীব্র ¯্রােতে ফেরিগুলো চলাচল করতে সময় বেশী লাগছে। তাছাড়া পানি বৃদ্ধির ফলে ঘাটে ফেরি ভেড়ানো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী সময় লাগছে। এগুলো প্রাকৃতিক সমস্যা। পাড়ের অপেক্ষায় আটকে পড়া যানবাহনগুলো দ্রুত পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন