স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক (নুরাল পাগল) নামের এক ব্যক্তিকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে দাফন করায় ‘শরিয়ত পরিপন্থী’ দাবি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নুরুল হকের গোয়ালন্দ দরবার শরীফে শরীয়া পরিপন্থি কার্যকলাপের অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির সভাপতি মাওলানা জালাল উদ্দিন প্রামাণিক।
গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতে দরবারে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে প্রথম জানাজা ও ভক্তদের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কয়েক ফুট উঁচুতে তাঁকে দাফন করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় আলেম সমাজ। তাঁদের আন্দোলনের মুখে ইতিমধ্যে কবরের রং পরিবর্তন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জালাল উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করায় তীব্র আন্দোলনের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন নুরুল হক। দীর্ঘদিন পর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে পুনর্বাসন করেছে একটি কুচক্রী মহল। গত ২৩ আগস্ট তাঁর (নুরুল) মৃত্যুর পর ব্যাপারটা ঘনীভূত হয়। মৃত্যুর আগে নুরুল ১২ ফুট উঁচু বেদি তৈরি করেন। সেই বেদির ওপর তাঁকে কবর দেওয়া হয় এবং পবিত্র কাবার আদলে রং করা হয়। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেছে। যার ফলশ্রুতিতে কবরের রং পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু কবর নিচু বা সমান করা হয়নি। আলোচনায় প্রথমে নুরুলের পরিবার এক সপ্তাহ সময় নিলেও এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। তারা দুদিন আগে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিলেও কোনো উত্তর পাননি।
রাজবাড়ী জেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নুরুল হকের কবর সমান না করা হয় এবং অন্যান্য দাবিদাওয়া পূরণ না হয়, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে? প্রশাসন আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এর সমাধান করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। অন্যথায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ দরবার শরীফের পক্ষ থেকে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নুরুল হক কখনো নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করেননি। তাঁর ওসিয়ত মোতাবেক কিছুটা উচুঁ করে ইসলামের বিধান মেনে দাফন করা হয়েছে। গোয়ালন্দ দরবার শরীফে শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কার্যকলাপ হয় না। ইতিমধ্যে আলেম উলামাদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে দরবারে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কবর নিচু করার যে কথা বলা হয়েছে, সেটা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা প্রশাসনের সাথে কথা বলে সমাধান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি মহল দরবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন