সিরাজুল ইসলাম : আমার আব্বু আর কোনদিন আমাকে মা বলে ডাক দিবে না, আর কোন আমার আব্বু কে দেখতে পাবো না। আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই, আমরা বাবুলের বিচার চাই।
কান্না করতে করতে কথা গুলো বলছিল ইরাকে নিহত মোঃ আজাদ খান এর মেয়ে আবিনা আক্তার কথা (১২)। নিহত আজাদ খান রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের হোসেন মন্ডল পাড়ার ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে। মাত্র তিন মাস আগে দালালের মাধ্যমে ইরাক গিয়ে তিনি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনে দেখা যায় বাড়ির বাইরে থেকেই কান্না ভেসে আসছিল। এসময় তার মা বিলাপ করতে করতে তার সন্তানের লাশ ফেরত চান। তার স্ত্রী’র কান্নার শব্দ এবং চিৎকার করে কান্না করছিল তার মেয়ে কথা।
নিহতের পরিবার ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, ৩ মাসে আগে আজাদ ধারদেনা করে ইরাক যান। ইরাকের বাগদাদে কাজুমিয়াতে কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে কাজের জায়গা থেকে সে নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে লিটন নামে অপর এক ইরাক প্রবাসী ফোন করে আজাদের পরিবারকে জানান, আজাদকে হত্যা করে ৩ টুকরো করে লাশ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। শহরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা পরিষ্কার করতে এসে লাশের দুর্গন্ধ পায়। এ সময় তারা বস্তার মুখ খুলে দেখে মানুষের লাশ। তখন তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ তাদের হেফাজতে নেয়।
আজাদের স্ত্রী ময়না বেগম জানান, অনেক ধারদেনা করে আমি আমার স্বামীকে বাবুলের মাধ্যমে ৩ মাস আগে ইরাকে পাঠাই। তার যে কাজ দেয়ার কথা ছিলো বাবুল তাকে সেই কাজ না দিয়ে অন্য একটি কাজে দেয়। আমার স্বামী বাবুলের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু বাবুল তার কোন ফোন ধরেনি। বাবুল তার ফোন ধরলে হয়তো আজ আমার স্বামীর এই করুন পরিণতি হতো না। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে ইরাক থেকে মুঠোফোনে বাবু্ল জানান, আমি ওর যেখানে দিয়ে ছিলাম সেখান থেকে কুমিল্লার সোহাগ নামে একটি ছেলে তাকে নিয়ে অন্য জায়গায় একটি দোকানে কাজে দেয়। সেই দোকানের মালিক কফিল আজাদকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কয়েকদিন ধরে বাড়িঘরের ময়লা ও আশপাশের আগাছা পরিস্কার করায়। এর মধ্যে আমি সোহাগকে ফোন করে আজাদের খবর জানতে চাই। সোহাগ আমাকে জানায়, আজাদ কফিলের বাসায় আছে। আজ শুনতে পাচ্ছি আজাদকে হত্যা করে লাশ তিন টুকরো করে ফেলা হয়েছে। আমরা ইরাকের বাংলাদেশ এম্বাসিতে বিচার দিয়েছি। অ্যাম্বাসির লোকজন সহ আমরা সেখানে যাচ্ছি। আজাদের লাশ বাগদাদের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন