রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফিরোজ আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌর শহরের শ্রীপুর এলাকায় পলাশ পাম্পের পেছনে বিরোধপূর্ণ জমিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফিরোজ আহমেদ। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ওই মামলাগুলো পরিচালনার বিনিময়ে তাঁর চাচা ও ফুফুরা তাকে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং পরে ২০২০ সালে একটি হেবা দলিলের মাধ্যমে পাঁচ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। সেখান থেকে নিজের ইচ্ছায় তিন শতাংশ জমি রিপা নামে এক আত্মীয়কে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি ও বায়না করা হয়। এতে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাঁর দাবি, একই জমি নিয়ে করা একাধিক দলিল জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফিরোজ আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর তাকে অপহরণ করে প্রায় ১২০ দিন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার জন্য তিনি প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করেছে, যা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া জমির প্রকৃত সীমানার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত এবং মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জিয়া সৈনিক দলের সহ-সভাপতি আবির হোসেন রাজ্জাক, পলাশ পাম্পের ম্যানেজার লোকমান হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একই জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেন মো. রাকিবুল হাসান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বৈধভাবে জমি ক্রয়ের পরও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ আহমেদ রাকিবুল হাসানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর সুরাহা হওয়া উচিত। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
মন্তব্য করুন