রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকায় একটি ছোট নদীর ওপর স্থায়ী ব্রিজ কিংবা নিরাপদ সাঁকো না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী সাতরে অথবা নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড কাউলজানি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর দুই পাড়ে মানুষের চলাচলের স্পষ্ট পথ থাকলেও মাঝখানে স্থায়ী কোনো সেতু নেই। পুরোনো একটি বাঁশের সাঁকোর কিছু খুঁটি এখনো পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে সেটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ছোট নৌকা কিংবা সাঁতরেই মানুষকে নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম শেখ বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলা যায়, কিন্তু বর্ষা এলেই চরম ভোগান্তি শুরু হয়। একটি ব্রিজ হলে এই গ্রামের কয়েকশত মানুষের দুর্ভোগ দূর হত। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় কৃষক হাফিজুল মোল্লা বলেন, “এখানে একটি সেতু আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ এখান দিয়ে যাতায়াত করেন। সেতু না থাকায় অনেক সময় আমাদের বিকল্প পথ দিয়ে ঘুরে যেতে হয়, ফলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে মানুষের সময় ও অর্থ-দুই-ই সাশ্রয় হবে, পাশাপাশি যাতায়াতও অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।”তিনি সরকারের কাছে দ্রুত এ স্থানে একটি সেতু বা নিরাপদ সাঁকো নির্মাণের দাবি জানান, যাতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়।
গৃহিণী মর্জিনা আক্তার বলেন, “আমাদের চাষের জমি নদীর ওপারে। তাই বারবার ওপারে যেতে হয়। কিন্তু সব সময় নৌকা পাওয়া যায় না। অন্যের নৌকা বারবার চাইলেও তারা সব সময় দেয় না। বাধ্য হয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয় এবং জীবনের ঝুঁকিও থাকে। তাই এখানে দ্রুত একটি ব্রিজ বা নিরাপদ সাঁকো নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, “স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আপাতত সেখানে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ অথবা অন্তত অস্থায়ী নিরাপদ সাঁকো নির্মাণ করা হোক। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান ঘটবে।
মন্তব্য করুন