মসজিদ নির্মাণের পর নামাজ আদায়সহ অন্যান্য কর্মকান্ড শুরু হলেও প্রায় তিন বছরেও নির্মাণ হয় নাই রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যাতায়াতের সংযোগ সড়ক (রাস্তা)। ফলে দূর্ভোগে পড়েছেন মসজিদে নামাজ আদায়রত মুসল্লিসহ অন্যান্যরা।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টিতে কাঁচা ও অস্থায়ী রাস্তার বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মুসল্লিরা।
জানাগেছে, প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালুখালী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। নির্মাণকাজ শেষে ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় সহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও মসজিদে যাতায়াতের জন্য এখনো কোনো স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
মুসল্লিরা জানান, বর্তমানে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মসজিদে যাওয়ার একমাত্র রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাদা ও পানিতে ভরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন। মাগরিব এশা ও ফজরের নামাজের সময় বয়স্ক মুসল্লিদের জন্য মসজিদে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মোটরসাইকেলে আসা মুসল্লিরাও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন না। স্থায়ীভাবে রাস্তাটি হওয়া অত্যান্ত জরুরী।
নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি মো. মুকুল হোসেন বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেলে করে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসি। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল দূরে রেখে হেঁটে মসজিদে যেতে হয়। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে আমাদের ভোগান্তির অবসান হবে।
আরেক মুসল্লি মো. আশরাফুল বলেন, মডেল মসজিদটি অত্যন্ত সুন্দর ও আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু যাতায়াতের জন্য একটি ভালো রাস্তা না থাকায় আমরা নিয়মিত দুর্ভোগে পড়ছি। হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ করে মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কালুখালী মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. ইমরুল কায়েস বলেন, প্রতিদিন এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে স্থানীয় সহ দুর-দুরান্ত থেকে অনেক মুসল্লি আসে। কিন্তু যাতায়াতের স্থায়ী সংযোগ সড়ক না থাকায় সবার সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে বৃষ্টিতে সমস্যা আরও বেড়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মুসল্লিদের জন্য মসজিদে আসা-যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এবং বাইক নিয়ে কেউ আসতে পরছে না। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, এটি সম্পূর্ণ গণপূর্তের বিষয়। তারা এখনও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এটি হস্তান্তর করে নাই। তবে গণপূর্ত মসজিদের বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ করে দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা রাস্তা নির্মাণ করে দিতে পারবেন।
রাজবাড়ী জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কালুখালী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। মূলত মসজিদটির সীমানা নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকার কারণে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা যায়নি। তবে তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
মন্তব্য করুন