রুবেলুর রহমান : রাজবাড়ীতে পদ্মা নদী তীরবর্তী মুন্সী বেলায়েত হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে মিজানপুর ইউনিয়নের মৌলভিঘাট সংলগ্ন এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ লাইভ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়। এ সময় মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জনি খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তবিবুর রহমান, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অধীর কুমার বিশ্বাস, ফকির নুরুল ইসলাম, মুন্সী বেলায়েত হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলী প্রমূখ।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, মিজানপুর ইউনিয়নের মৌলভিঘাট সংলগ্ন মুন্সী বেলায়েত হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ জন শিক্ষার্থী পদ্মা নদীর ওই পারের চর আম্বারিয়া, মৌকুড়ি ও কাঠুরিয়া চর থেকে নৌকা যোগে উত্তালপদ্মা নদী পারি নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল ও প্রবল স্রোত থাকায় স্কুলে আসতে ভয় পায় শিক্ষার্থীরা। তাদের বিদ্যালয় মুখি করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উদ্দ্যোগে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চরের ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে লাইভ জ্যাকেট দেয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুলে আসতে বড় বড় ঢেউ দেথে ভয় লাগে। এখন আর ভয় লাগবে না। আমাদের সবার লাইভ জ্যাকেট দিয়েছে। এতে আমরা খুশি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, পদ্মা নদী রাজবাড়ীকে বিভিক্ত করছে। নদীর ওই পারেও রাজবাড়ীর অংশ আছে। বর্তমান পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে স্রোতও বৃদ্ধি পেয়েছে । যার কারণে মাঝে মধ্যেই নদী উত্তাল থাকে। প্রতিদিন সেখান থেকে ঝুকি নিয়ে ট্রলার যোগে এই পারের এই স্কুলে আসে শিক্ষার্থীরা। ওদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই লাইভ জ্যাকেট দেওয়া হচ্ছে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। নদী পারাপারের সময় শিক্ষার্থীরা লাইভ জ্যাকেট পরে পারাপার হলে দূর্ঘটনা ঘটলেও ভেসে থাকতে পারবে। তবে এটি পরে সাঁতার না কাটাই ভাল।
মন্তব্য করুন