তীব্র গরমের সাথে পাল্লাদিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বাড়ছে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডসেডিং। এতে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এছাড়া দেশের ২য় বৃহত্তম পোল্ট্রি জোন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ। লোডসেডিংয়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি সেক্টরের ব্যবসায়ীরা।
গত ১৩ এপ্রিল সোমবার বেলা ১২টা থেকে বিদ্যুতের লোডসেডিং পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ১৩ এপ্রিল বেলা আড়াইটায় গোয়ালন্দে লোডসেডিং শুরু হয়। বিদ্যুত আসে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লোডসেডিং শুরু হয়। বিদ্যুত আসে ৭টা ৩৫ মিনিটে। এরপর রাত সোয়া ৯টায় ফের লোডসেডিং শুরু হয়। বিদ্যুত আসে ৯টা ৪০ মিনিটে। এদিন রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আবারো লোডসেডিং শুরু হয়।
১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ১টায় বিদ্যুত আসে। রাত ২টায় আবারো শুরু হয় লোডসেডিং। বিদ্যুত আসে রাত ৩টায়। ভোর ৪টায় যথারীতি শুরু হয় বিদ্যুতের লোডসেডিং। বিদ্যুত ফিরে আসে ভোর ৫টায়। এরপর সকাল ৭টা ৩৫ মিটিনে বিদ্যুত চলে গিয়ে সকাল ৮টায় ফিরে আসে। এরপর গোয়ালন্দ শহরে সারাদিন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ থাকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।
১৫ এপ্রিল বুধবার রাতের প্রথম প্রহর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুত আসে। রাত পৌনে ২টার দিকে ফের লোডসেডিং শুরু হয়। তবে সোয়া ২টায় বিদ্যুত সরবরাহ চালু হয়। এরপর সকাল ৬টায় লোডসেডিং শুরু হয়। টানা আড়াই ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যুত আসে। বেলা ১০টায় আবারো লোডসেডিং শুরু হয়। বিদ্যুত আসে বেলা সাড়ে ১১টায়। কিন্তু ১১টা ৪০ মিনিটে আবারো বিদ্যুত চলে যায়। ১০ মিনিট পর বিদ্যুত আসে। এরপর বেলা ১২টা ৫ মিনিটে লোডসেডিং শুরু হয়। বিদ্যুত আসে সাড়ে ১২টার দিকে। এ পরিস্থিতিতে বেলা পৌনে ২টার দিকে ফের বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সোয়া ৩টায় পুনরায় বিদ্যুত সরবরাহ চালু হয়। ৩টা ৪০ মিনিটে ফের বিদ্যুত চলে যায়।
বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডসেডিংরে কবলে পড়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পোল্ট্রি শিল্পের প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে এই সেক্টরে জড়িতরা চরম ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুত সরবরাহ না থাকায় তাদের জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এদিকে জেনারেটরের জ¦ালানীরও সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক ব্যাক্তি জানান, ১৪ এপ্রিল শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান থাকায় গোয়ালন্দ শহর এলাকায় সারাদিন কোন লোডসেডিং ছিল না। তবে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে চরম লোডসেডিং ছিল। নববর্ষের দিন গোয়ালন্দে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকায় ওইদিন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
গোয়ালন্দ পহেলা বৈশাখ উৎযাপন পর্ষদের আহবায়ক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অনুষ্ঠানের দিন বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও আগের রাতে এক ঘন্টা পরপর লোডসেডিং হয়েছে। এতে তাদের আয়োজনও বিঘ্নিত হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান জানান, লোডসেডিংসহ নানা কারণে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের পথে বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুত সরবরাহ করতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া তীব্র গরমের কারণে মুরগীগুলো অসুস্থ্য হয়ে মারা যাচ্ছে।
ওয়েস্টান জোন পাওয়ার ডিসট্রিবিউশন কোম্পানী লি: গোয়ালন্দ কার্যালয়ের আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গোয়ালন্দে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু আমরা পাচ্ছি সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। স্বাভাবিক ভাবেই লোডসেডিং দিয়ে আমাদের বিদ্যুত ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে।’
মন্তব্য করুন