গত কয়েক দিনে আমার বাড়িতে অন্তত ৫ ট্রাক ফুল এসেছে। যারা ফুল দিয়েছে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আছে। আজ এখানে যারা ঠিক ঠিক বলছেন তাদের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারে। আমি সবাইকে সাবধান করে দিতে চাই ৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যান। না হলে তাদের জন্য খুব খারাপ পরিনতি অপেক্ষা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার কোন কাছের মানুষও যদি হয়, সেও রেহাই পাবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক সভায় এ কথা গুলো বলেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী -১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমূদ খৈয়ম বলেন, আমি জানি কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে আসে, ফুল দেয়। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে জেলার প্রতিটি এলাকা আমার নখদর্পণে। তাই কাউকে আড়াল করার সুযোগ নেই। এখনও সময় আছে—স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
মাদকের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার জেলায় কোনো রকম মাটি-বালু কাটা চলবে না। আর কিছু মানুষের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের জায়গা হবে না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, চাঁদাবাজির দায় কে নেবে? এ দায় আমি কেন নেব? যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির বিষয়ে ‘কোনো ছাড় নয়’—এমন কড়া হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সভায় গোয়ালন্দের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি একটি শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান, যাতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চর এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কৃষি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি চালু এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাত করণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। চরাঞ্চলকে একটি সম্ভাবনাময় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান।
স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও দালালচক্রের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করা হবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও বিনা পয়সায় চিকিৎসা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোয়ালন্দের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে একটি নৌবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নৌবন্দর স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দে যদি পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ হয়, তাহলে এ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে উর্বর ও সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিণত হবে। রেল সংযোগ চালু হবে। আর রেল সংযোগ চালু হলে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। তখন রাজবাড়ী কার্যত ঢাকারই অংশ হয়ে যাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে শিল্প-কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসীর হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন