সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি বলেছেন, গত ২০ বছর রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কোন নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয় না। নৌকা বাইচের সাথে এখানে মেলা বসেছে। দূর-দুরন্ত থেকে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ এসে উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রতিযোগিতা ও মেলা উপভোগ করে। কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই নৌকা বাইচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ এবং এটা আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ। যে কারণে এবার আমরা সারাদেশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের চেষ্টা করেছি। আমাদের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় আগের মতো নিথর নিস্তব্ধ মন্ত্রণালয় হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সমস্ত সেক্টর ও পর্যায়ে পুনর্গঠন করার কাজ চলছে। এখন তার নেতৃত্বে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকেউ নতুন করে বিনির্মাণ করার কাজটি হাতে নিয়েছি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ীর গোদার বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ৩ দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমাদের নজরুল বর্ষ চলছে। নজরুলের লেখা গান, কবিতা, নাটক সহ তার সমস্ত কিছু নিয়ে অনেক কর্মসূচি চলছে। আগামী শীতে আমরা সাংস্কৃতিক উৎসব করব। এবং মহাসমারহে এই উৎসব পালিত হবে। এখানে ঘোড়া দৌড়, পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানো, লাঠিবাড়ি ও হাডুডু খেলাসহ সকল কিছু সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদক এবং বিশৃঙ্খলা মোকাবেলা করতে তরুনদের খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এবং তরুন সমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, খেলাধুলা ও পড়াশুনায় মনযোগি করতে হবে। ফলে এই নৌকা বাইচ শুধু আনন্দ না, এরমধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত ও উদসাহিত এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তুলতে করতে চাই।
এদিকে উদ্বোধনী দিনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে পদ্মা নদীর তীরে জরো হয়েছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত হাজার হাজার দর্শনার্থী। এ সময় বৈঠার টান ও মাঝি-মাল্লাদের জারি সারি গানে উচ্ছাসে ফেটে পড়েন দর্শনার্থীরা। এ সময় দশনার্থীদের কেউ নৌকায় আবার কেউ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে হাত তালি ও চিৎকার করে উৎসাহ যোগান মাঝি-মাল্লাদের। অপরদিকে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে পদ্মা পাড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমাজ। মুখোরচক খাবারসহ হরেক পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
আয়োজক কমিটি জানান, তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৪ নৌকা নাম লিখিয়েছে। এবং প্রথমদিনে এসেছে প্রায় ৮ থেকে ১০টি নৌকা। আগামীকাল ও পড়শুদিন সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলরব প্রতিযোগিতা।
মন্তব্য করুন