স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে লিপি আক্তার (২৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চর বালিয়াকান্দি গ্রামের মো. সবুজ সরদারের ২য় স্ত্রী। রোববার সকালে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইরাক প্রবাসী সবুজ সরদারের ২য় স্ত্রী লিপি আক্তার একাই নির্মাণাধীন একতলা ভবনের ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। বোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে প্রতিবেশী আখের আলী ওই বাড়িতে যান। বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলেও কোন সাড়া না পেয়ে এবং ঘরের দরজা খোলা থাকায় ভেতরে তাকিয়ে তিনি লিপির মৃতদেহ খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় তিনি অন্যান্য প্রতিবেশীদের ডাকেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিপি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।
প্রবাসী সবুজ সরদারের প্রথম স্ত্রী শিরিন আক্তার জানান, তিনি শ^শুড়-শাশুড়ির সাথে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় স্বামীর পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করে। তার স্বামী দুই বৌয়েরই ভরনপোষন করতেন। তিনি আরো জানান, একজনের কাছ থেকে ধার করে নেয়া ১ লাখ টাকা পরিষোধের জন্য আগের দিন ব্যাংক থেকে তার নিহত সতীন ১ লাখ টাকা তুলেছিলেন। এছাড়া ঘরে দামি ৩টি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিল। যার কিছুই নেই। দুই সতীন দুই বাড়িতে থাকলেও তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
প্রবাসী সবুজ সরদারের মা আকিরুন নেছা জানান, তার প্রবাসী ছেলে ২য় বিয়ে করে ছোট বৌকে এখানে নতুন বাড়ি করে দিয়েছিলেন। আর বড় বৌ তাদের সাথে থাকে। ছেলের বৌয়ের মৃত্যু খবর পেয়ে তারা এখানে এসেছেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে নিহত নারী ঘরে একা বসবাস করলেও তার শয়ন কক্ষে ২টি চায়ের কাপ পাওয়া গেছে। যেখানে এক কাপ চা পান করা হয়েছে এবং অপর কাপ চা কাপেই রয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন