প্রিয়জনের সাথে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। ফলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লেগে ছিল। তবে তেমন কোন ভোগান্তি না থাকায় নদী পার হয়ে স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন ঘরে ফেরা মানুষ ও তাদের বহনকারী যানবাহন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চ যাত্রীঠাসা। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত যানবাহন থাকায় আগতরা স্বস্তিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঘাট এলাকায় জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অপরদিকে ঘরমুখো যাত্রীদের যে কোন ধরনের হয়রানি ভোগান্তি রোধে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সরেজমিন উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। এসময় তিনি যে কোন ধরনের অসংগতি লক্ষ্য করলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করছেন। এছাড়া যাত্রীদের কাছে গিয়ে ভাড়া ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের মন্তব্য গ্রহন করছেন।
ঢাকার মিরপুরে একটি দোকানে কর্মরত মো. রাসেল আহমেদ (৪০) বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই রুটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ অনেকটাই কমে গেছে। তাই এখন এ পথে যাতায়াতে কোনো সমস্যা হয় না। ঘাটে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যেতে পারছি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে কোনো যানজট বা ভোগান্তি নেই। এ নৌরুটে ১৬টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দৃশ্যমান ভাড়ার তালিকা টাঙানো সহ নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক আছে। এখনো পর্যন্ত বড় ধরণের কোন অসংগতি পাওয়া যায়নি। দৌলতদিয়া ঘাটে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন