গোয়ালন্দে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। পৃথক দু’টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগ কর্তব্যরত দুই আনছার সদস্যকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া বুথের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ায় এক ভোটারকে জরিমানা করা হয়েছে।
অব্যহিত পাওয়া আনছার সদস্যরা হলেন, দৌলতদিয়া ঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত কাজলী আক্তার ও চর কর্ণেশনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দায়িত্বরত মো. আবু দাউদ। এছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বুথের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় দিলু শেখ (৩৫) নামের এক ভোটারকে ৫শ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। তিনি দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সোহরাব মন্ডলের পাড়া গ্রামের আ. রহিম শেখের ছেলে।
দৌলতদিয়া ঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বিএনপি প্রার্থীর কর্মী মো. ফারুক শেখ জানান, তারা জানতে পারেন যে, দায়িত্বপালনরত একজন আনছার সদস্য কেন্দ্রের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার জন্য লাইনে থাকা ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। তারা ভিতরে গিয়ে ওই আনছার সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। বিষয়টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ওই আনছার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেন।
এ সময় তুষার আহমেদ নামের এক ব্যাক্তি জানান, ভোটগ্রহনে যুক্ত ব্যাক্তিরা যদি কেন্দ্রের মধ্যে ভোটারদের কাছে ভোট চান তা খুবই দুঃখজনক। দোষী আনছার সদস্যকে অব্যহতি দেয়া কোন সমাধান নয়, তাকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত আনছার সদস্য কাজলী আক্তার জানান, তিনি কোন প্রতীকের পক্ষে ভোট চাননি। ভোটারা হ্যা-না ভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাদের বুঝিয়ে হ্যাঁ’তে ভোট দিতে বলেছেন।
দৌলতদিয়া ঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বাবু জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনছার সদস্য কাজলী আক্তারকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান জানান, ভোটকেন্দ্রের বুথের মধ্যে অবৈধ ভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ায় দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৬ ধারা অনুযায়ী দিলু শেখ নামের এক ব্যাক্তিকে ৫শ টাকা জরিমান অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনের গোয়ালন্দ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভীর লক্ষ্য করা গেলেও দুপুরের পর প্রায় প্রতিটি কেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যায়। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা যায়, বেলা ২টা পর্যন্ত ৪৭.৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। চুড়ান্ত হিসেব ফলাফলের সাথে দেয়া হবে বলে কন্ট্রোলরুমে কর্মরত কর্মকর্তাগণ জানান।
সহকারী রিটানিং অফিসার ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস জানান, গোয়ালন্দ শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোটগ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। কর্মরত আনছার সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে ভোট কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এছাড়া তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে।
মন্তব্য করুন