এবারের দূর্গা পূজায় পৌরনিক কাহিনী উপস্থাপনের পাশাপাশি ৫২ খন্ড প্রতিমা প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছে রাজবাড়ী পৌরসভার ধুঞ্চি পূর্বপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কর্তৃপক্ষ।
ধর্মীয় বিশ্বাস, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মসহ সনতানীদের সামনের তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন মন্ডপ কর্তৃপক্ষের। এবারের প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে শ্রী রামের অকাল বোধন ও রাবণ বধ, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম থেকে কংস বধ এবং আদিযোগী শিব এর কাহিনী। মহা ষষ্ঠীর মাধ্যমে সনতানীদের দূর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় শারদীয় দূর্গা উৎসব। তবে এই মন্ডপে অতিরিক্ত দুই দিন রাখার পর দেওয়া হবে প্রতিমা বিসর্জন। এদিকে ব্যাতিক্রমী এই পূজা মন্ডপ ও ৫২ খন্ড প্রতিমা প্রস্তুত করতে প্রায় দুই মাস ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন ৫/৭ জন প্রতিমা তৈরির কারিগর। মাটির কাজ শেষে বতর্মানে চলছে রঙের কাজ। এবং রঙের কাজ শেষে শুরু হবে সাজ-সজ্জা এবং আলোজসজ্জা ডেকোরেশনের কাজ। এগুলোর সবকিছুই চলছে জোরে সোরে। অপরদিকে মন্ডপ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার থাকবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মন্ডপ কর্তৃপক্ষের তত্বাবধায়নে সিসি টিভি ক্যামেরাসহ নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম।
জানাগেছে, রাজবাড়ীর ৫ উপজেলায় এবার ৪৬১ টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দূর্গা পূজা। গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ২১ টি মন্ডপ।
মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি কিশোর কুমার গুহ বলেন, উৎসবমূখর পরিবেশে ২০১৭ সাল থেকে এখানে আমরা পূজা করে আসছি। ইতিমধ্যে এখানে ১০৮, ৮৬ ও ৫২ খন্ডের পূজা হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় এবারও ৫২ খন্ড পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ৫২ খন্ড প্রতিমায় মূর্তি থাকবে ৭০ টি। এবার বিশেষ আকর্ষন হিসেবে দূর্গা মায়ের পাশাপাশি রামের অকাল বোধন পূজা প্রদর্শন করা হবে। এবং আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভাল। নিরাপত্তায় মন্ডপের নিজস্ব সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করবে। সেই সাথে আশপাশের মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করছেন। ফলে এবারের পূজা উৎসব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্দিরের মত এত বড় আয়োজন জেলার আরও কোথাউ নাই। যে কারণে জেলার সকল মন্দির থেকে এখানে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা আসবে।
ধুঞ্চি পূর্বপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রীকান্ত কুমার বিশ্বাস রাহুল বলেন, দূর্গা মায়ের পূজার পাশাপাশি এবার শ্রী রামের অকাল বোধন ও রাবণ বধের বিশেষ থিম শো প্রদর্শন করা হবে। থিমশোতে থাকবে রাম-রাবনের যুদ্ধ, রাম মায়ের পূজা করবে এবং রামের সহায়ক হিসেবে হনুমানজি বিভিন্ন রুপে আবিভূত হয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সাথে আদিযোগী শিব এবং শ্রীকৃষ্নের জন্মতিথি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে ৫২টি মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হবে। এবারের আয়োজনে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারনা হবে। মূলত সনাতনী ধর্ম সম্পর্কে জানাতে বা জ্ঞানী করতে এবারের আয়োজন। পূজা উৎসবমূখর করতে সকল ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, উৎসব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার রাজবাড়ীতে দূর্গা পূজা উদযাপনে কঠোর অবস্থানে থাকবে। সবার সহযোগিতায় আশা করছি ভাল ভাবে সম্পন্ন হবে পূজা।
মন্তব্য করুন