রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বাসটির পুরো অংশ পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রোববার ক্ষতিগ্রস্থ্য বাসের মালিক এসএম সুলতান আহমেদ বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১টার দিকে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা ‘মা ক্লাসিক’ নামের একটি লোকাল বাসে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী, চালক বা হেলপার ছিলেন না বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সোয়া ১টার দিকে টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা বাসটিতে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই বাসটির পুরো অংশ পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯১২৪। বাসটি রাজবাড়ী মালিক সমিতির আওতাধীন এবং দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করত।
গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের ডাকা লকডাউন সফল করতেই বাসটিতে নাশকতা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, পার্কিং করে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাস শ্রমিকরা বলেন, রাতের বেলায় টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। বাসটি পুড়ে যাওয়ায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা বলেন, যাত্রীবাহী বাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগুনের প্রকৃত কারণ বের করার পাশাপাশি দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, টার্মিনালের পাশেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিল। বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন